২ নেতার গ্রুপিংয়ে টালমাটাল সিংগাইর বিএনপি

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর দুই সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত ও আফরোজা খান রিতার গ্রুপিংয়ে চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বিএনপি। সদ্য ঘোষিত নতুন উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটির দায়িত্ব পেয়েছেন মানিকগঞ্জ-২ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী ও জেলা বিএনপি সভাপতি দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য আফরোজা খান রিতা গ্রুপের অনুসারীরা। দলীয় পদবঞ্চিত হয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছেন আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য সাবেক সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্তর সমর্থকরা।

এদিকে, গত ২৮ জুন নতুন করে উপজেলা ও পৌর বিএনপি কমিটির যৌথ সভায় ছয়টি সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে বিলুপ্ত করা হয়েছে উপজেলার সব ইউনিয়ন কমিটি। তৃণমূলের আগামী নতুন কমিটি থেকেও বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছেন শান্তর সমর্থকদের। সদস্য ঘোষিত কমিটি বাতিল ও দলে শক্তি জানান দিতে চলছে পরস্পরবিরোধী শোডাউন।  

জানা গেছে, ১৯৯১ সাল থেকে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর অধুনালপ্ত মানিকগঞ্জ-৪ (সিংগাইর-সদরের আংশিক) আসনে দলীয় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন প্রয়াত শিল্পমন্ত্রী সামসুল ইসলাম খান (নয়া মিয়া)। ২০০৬ সালের ২১ জানুয়ারি তার মৃত্যু হওয়ায় আসনটি শূন্য হয়। উপনির্বাচনে ওই আসনে বিএনপির টিকিট পেয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন নয়া মিয়ার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত।

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আসন পুনর্বিন্যাস করে মানিকগঞ্জ জেলার চারটি আসনকে তিনটি আসন করা হয়। পুনর্বিন্যাসকৃত মানিকগঞ্জ-২ আসনে সিংগাইর ও সদরের তিন ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হয় হরিরামপুর উপজেলা। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন বাগিয়ে নেন প্রয়াত শিল্পপতি ও দপ্তরবিহীন মন্ত্রী হারুনার রশিদ খান মুন্নুর মেয়ে বর্তমান জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রিতা। পরে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ আসন বিএনপির হাতছাড়া হওয়ার পর দলটির অবস্থা লেজেগোবরে হয়ে পড়ে। নির্বাচনী এলাকার রাজনৈতিক নেতৃত্বে ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত। আফরোজা খান রিতা সমর্থিতদের দূরে রাখায় বিএনপির একাংশ নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ে। সম্প্রতি ঘোষিত কয়েকটি কমিটি বাতিলের দাবিতে চারিগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল করেন ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্তর নেতৃত্বাধীন পদবঞ্চিতরা। 

ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত অভিযোগ করে বলেন, গঠনতন্ত্র না মেনে এসব কমিটি করা হয়েছে। তাই নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ। দ্রুত এসব কমিটি বাতিলের দাবি জানান তিনি।

আফরোজা খান রিতা বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের জোরালো দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তবে, সিংগাইর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবিদুর রহমান খান রোমান বলেন, উপজেলা কমিটি জেলা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক চলে। মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় ও বিভিন্ন দল থেকে আসা ব্যক্তিদের নিয়ে আগের কমিটি বাদ দিয়ে প্রকৃত বিএনপির কর্মীদের দিয়ে নতুন কমিটি হয়েছে। পুরনো কমিটির অনেকেই দলের নতুন কমিটিতে আছেন।