২০২২ সালে তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়েছিল ইউরোপ। এবার যুক্তরাষ্ট্রেও চোখ রাঙাচ্ছে তাপপ্রবাহ, বইছে প্রখর উত্তাপ। তীব্র তাপদাহে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মরু এলাকাগুলোয় ৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা পৌঁছাতে পারে, এমন আশঙ্কা জাতীয় দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তরের। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা রাজ্যে তীব্র গরম আবহাওয়ার রেকর্ড হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। লাস ভেগাস ও নেভাদার বাসিন্দারা রবিবার ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা দেখতে পাবে বলে অনুমান করা হয়েছে। এল পাসো ও টেক্সাসেও চরম তাপমাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এনডব্লিওএস) জানায়, ১১৫ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ তাপজনিত ঝুঁকির মধ্যে আছেন। ফিনিক্সে গত ১৩ দিনে তাপমাত্রা কমপক্ষে ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার থেকে তা বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এখানে গৃহহীনদের জন্য শীতল আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। হাজার হাজার পানির বোতলও সরবরাহ করছে কর্তৃপক্ষ।
অন্যান্য অনেক শহরে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার জারি করা একটি সতর্কবার্তায় এনডব্লিওএস জানায়, নেভাদা, ওকলাহোমা, টেক্সাস এবং ক্যালিফোর্নিয়ার মতো রাজ্যগুলোতেও আঘাত হানবে তাপপ্রবাহ। এ ছাড়া দক্ষিণ সমভূমির কিছু অংশে তাপমাত্রা ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে।
পূর্বাভাসকারীরা বলছেন, কিছু কিছু এলাকায় রাতের তাপমাত্রা ‘অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ’ (৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে) থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাই রাতের বেলায় কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে জনগণ।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দিনের আলোয় ঘরে থেকে নিজেদের হাইড্রেটেড থাকার পাশাপাশি পোষাপ্রাণী বা বাচ্চাদের তালাবদ্ধ যানবাহনে না রাখার জন্য অনুরোধ করেছেন তারা।
এদিকে এবারও তাপপ্রবাহে ধুঁকছে ইউরোপ। স্পেন, ফ্রান্স, গ্রিস, ক্রোয়েশিয়া এবং তুরস্কের কিছু অংশে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতালিতে প্রচণ্ড গরমে পর্যটকসহ বহু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে; অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে। গত সপ্তাহে বিশ্বব্যাপী গড় তাপমাত্রা ছিল ১৭ দশমিক ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস; যা এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।