চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কাথরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইবনে আমিনের বিরুদ্ধে বরাদ্দকৃত প্রকল্পের অর্থ আত্মসাত, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতাসহ ১৮ অভিযোগ এনে অনাস্থা জানিয়েছেন পরিষদের সদস্যরা।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান চৌধুরীর কার্যালয়সহ কয়েকটি দপ্তরে ৯ ইউপি সদস্যের স্বাক্ষরিত একটি অনাস্থাপত্র জমা দেওয়া হয়।
এর আগে একই পরিষদের ছয় সদস্য পরিষদের কার্যালয়ে অফিস না করে নিজ বাসায় অফিস করাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, র্যাব ও বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে অভিযোগ করেন।
এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-পরিচালক বদিউল আলমের দপ্তরে গত বছরের ১৪ নভেম্বর শুনানি হয়। গত ১৫ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উভয় পক্ষকে একত্রিত করে দেওয়া হলেও সেটার কিছুদিন যেতে না যেতে আবার বিরোধ সৃষ্টি হয়ে অনাস্থা আনলেন ৯ ইউপি সদস্য।
১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাদশা মিয়া, ২ নম্বর ওয়ার্ডের আনোরুল আজিম, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আবু তালেব, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রফিক আহমদ, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হুমায়ুন কবির চৌধুরী, ৮নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দ আহমদ, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রফিকুল ইসলাম চৌধুরী এবং ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নিলোয়ারা বেগম ও ৭, ৮, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পাখি আক্তার।
এবার আনিত অনাস্থাপত্রে অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দকৃত আটটি নলকূপ বিনা রেজ্যুলেশনে পছন্দমতো ব্যক্তির কাছে টাকার বিনিময়ে হস্তান্তর, ২ হাজার ৩০০ নতুন ভোটারের কাছ থেকে ৬০০ টাকা করে উৎকোচ গ্রহণ, ইউনিয়ন পরিষদের পুকুর ও জমি বর্গার টাকা আত্মসাত, জাটকা নিধন প্রতিরোধে জেলেদের বরাদ্দকৃত চাউল নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া, ইউনিয়ন পরিষদ সংস্কার কাজ অনিয়ম ও আত্মসাত, ইউনিয়নের সড়কের সংস্কার কাজ, মাটি ভরাট, খাদ্য কর্মসূচির টাকা আত্মসাত, অসম্পূর্ণ কোরাম দিয়ে পরিষদের সভা সম্পন্ন করা, পরিষদের সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া রেজ্যুলেশন সৃষ্টি।
এছাড়াও টি আর কাবিখার পুরো টাকা আত্মসাত, অফিস থেকে ইউপি সচিবকে বের কয়ে দিয়ে অফিসে তালা দেওয়া এবং পরিষদের কম্পিউটারসহ অন্যান্য জিনিস বাড়িতে নিয়ে যাওয়া, শ্রমিকদের সিম কার্ড নিজ নিয়ন্ত্রণে রাখা, রেজিস্ট্রি অফিস থেকে পাওয়া এক শতাংশ টাকা আত্মসাত,পরিষদের উন্নয়ন তহবিল থেকে ইউপি সদস্য পাখি আক্তারের নাম কেটে ছকিনা আক্তারের নাম সংযুক্ত করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে আত্মসাত করা, উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক ঘূর্ণিঝড় মোখায় বরাদ্দকৃত এক টন চাল আত্মসাত, জন্ম নিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, ট্রেড লাইসেন্স, প্রত্যয়নপত্র, মৃত্যু সনদসহ সকল কার্যক্রম ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সরিয়ে স্থানীয় কাথরিয়া বাজারের একটি দোকানে কার্যক্রম পরিচালনা এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা, ইউনিয়নের হালিয়াপাড়া গ্রামে মডেল মাঠ নির্মাণ ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে সমুদ্র সৈকতের খালি চরকে মাঠ দেখিয়ে সরকারকর্তৃক বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাত।
৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হুমায়ুন কবির চৌধুরী বলেন, ইবনে আমিন চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ গ্রহণের পর থেকে খেয়াল-খুশিমতো পরিষদের কাজ করে আসছেন। ইউনিয়ন পরিষদে তালা দিয়ে নিজ বাড়িতে পরিষদের কার্যক্রম চালাচ্ছেন। একের পর এক প্রকল্পের টাকা আত্মসাত করছেন। বাধ্য হয়ে আমরা ৯ সদস্যের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে এই অনাস্থা প্রস্তাব দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আবেদন করেছি।
সদস্যদের অনাস্থার ব্যাপারে চেয়ারম্যান ইবনে আমিন বলেন, ইউপি সদস্যদের সাবেক দুই চেয়ারম্যান মিলে বিভ্রান্ত করছেন। এর আগেও তারা অভিযোগ করে পরে, প্রশাসনের মাধ্যমে তা সমাধান হয়েছে।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আমার অফিসে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্তা প্রস্তাব জমা দিয়েছে। এর আগেও তাদের মধ্যে সমস্যা হলেও পরে তা সমাধান হয়। তাদের অভিযোগটি তদন্ত করা হবে বলে তিনি জানান।