ইউক্রেন ও পশ্চিমা মিত্রদের বহুল আকাক্সিক্ষত পাল্টা আক্রমণে সফলতা আসছে না। এর মূল কারণ ইউক্রেন পাল্টা আক্রমণ শুরু করতে যে সময় নিয়েছে তত দিনে দখলকৃত এলাকা সুরক্ষিত করতে কয়েক স্তরের প্রতিরক্ষা গড়ে তুলেছে রুশ বাহিনী। বিশেষ করে স্থলপথে হামলা মোকাবিলায় ট্রেঞ্চ, মাইন ফিল্ড আর ট্যাংক সাঁজোয়া যান ঠেকাতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে রেখেছে রাশিয়া। অথচ রাশিয়ার বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালাতে গিয়ে ইউক্রেন এমন ভুল করেছে যে ভুলের মাশুল গুনতে হয়েছিল রুশ বাহিনীকে, গত বছরের মাঝামাঝিতে। স্থলপথে ইউক্রেনের আরও ভেতরে ঢুকতে গিয়ে মাইন এবং যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ট্যাংকবিধ্বংসী জেভলিনের শিকারে পরিণত হয়েছিল রাশিয়ার বেশ কিছু ট্যাংক। অথচ পশ্চিমাদের লেপার্ড, আব্রামস ট্যাংক হাতে পেয়ে একইভাবে ইউক্রেনও চেয়েছে তার হারানো এলাকা ফেরত পেতে। জবাবে রাশিয়ার ট্যাংকবিধ্বংসী মিসাইল, মাইনে বিপর্যস্ত হয়েছে ইউক্রেনীয় সেনারা।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন জানায়, পাল্টা আক্রমণের শুরুতে ইউক্রেন পশ্চিমাদের সরবরাহ করা অস্ত্র ও সরঞ্জামের ২০ শতাংশ হারিয়েছে। অভিযানের গতি হ্রাস এবং কমান্ডাররা কৌশল পরিবর্তন করায় ক্ষয়ক্ষতির হার কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের মতে, আক্রমণ শুরুর প্রথম দুই সপ্তাহে রণক্ষেত্রে এসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিমাদের কাছ থেকে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ আর্মার্ড পারসোনাল ক্যারিয়ার ও ট্যাংক রয়েছে। এতে ইউক্রেনের টনক নড়েছে। শোনা যাচ্ছে, পাল্টা আক্রমণের কৌশল নাকি বদলে ফেলছেন এ অভিযানের নায়ক ভ্যালেরি জালুজনি।
কর্মকর্তারা বলছেন, তাই আক্রমণের পরের সপ্তাহগুলোতে এই ক্ষয়ক্ষতি ১০ শতাংশে নেমে আসে। ইউক্রেন বলছে, আসন্ন বড় আক্রমণের জন্য তারা সেনা ও সরঞ্জাম বাঁচিয়ে রাখছে।
রণক্ষেত্রে অস্ত্র ও সরঞ্জাম হারানো কমে আসে ইউক্রেন নিজেদের কৌশল পরিবর্তনের কারণে। এখন তারা রাশিয়ার সেনাবাহিনীর ওপর কামান ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালাচ্ছে। অথচ শুরুর দিকে শত্রুর মাইনক্ষেত্র ও গুলির মুখে হামলা করতে সেনাদের পাঠিয়েছিল। নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, এই সুসংবাদের বাস্তবের ভয়াবহ চিত্রকে কিছুটা অস্পষ্ট করে দিচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতি কমেছে কারণ পাল্টা আক্রমণও গতি হারিয়েছে। এমনকি অনেক স্থানে পাল্টা আক্রমণ স্থগিত করা হয়েছে। বিশেষ করে ইউক্রেনীয় সেনারা রাশিয়ার প্রতিরক্ষা রেখা অতিক্রম করতে হিমশিম খাচ্ছে। এই ক্ষয়ক্ষতির পরও মাত্র পাঁচ কিলোমিটার এগোতে পেরেছে তারা। অথচ তাদের লক্ষ্য ৬০ মাইল অতিক্রম করে আজভ সাগরতীর পর্যন্ত পৌঁছে রুশ সেনাবাহিনীকে বিভক্ত করা।
বাস্তবতা স্বীকার করলেও আশাবাদী ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এমনকি ক্রিমিয়াও পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন তার! পাল্টা আক্রমণে সফলতা পেতে পশ্চিমাদের প্রতিশ্রুত অস্ত্র দ্রুত চাইছেন তিনি। একই সঙ্গে চাইছেন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ-সিক্সটিন যুদ্ধবিমান।