বিদ্বেষের আগুন না জ্বালিয়ে প্রশান্তির বার্তা

সব ধর্মের মূলকথা শান্তি, ধর্মগ্রন্থগুলো দেয় শান্তির বার্তা। অথচ রাজনৈতিক-ধর্মীয় বিদ্বেষ থেকে সেই ধর্মগ্রন্থকেও পুড়ত হয়, ছড়ায় বিদ্বেষের আগুন। সম্প্রতি স্টকহোমে সরকারি অনুমোদন নিয়ে পবিত্র কোরআন পুড়িয়ে বিশ্বে ধর্মীয় বিদ্বেষ উসকে দেন সুইডেনে আশ্রিত এক ইরাকি খ্রিস্টান। কোরআন পোড়ানোর এ ঘটনা কোটি কোটি মুসলিমকে আঘাত দিলেও এর পক্ষে পশ্চিমাদের যুক্তি ছিল ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’। সেই একই যুক্তিতে ইহুদি এবং খ্রিস্টানদের ধর্মগ্রন্থ পোড়ালে কী প্রতিক্রিয়া হয় সেটা প্রকাশ্যে আনার পাশাপাশি শান্তির বার্তা দিলেন এক মুসলিম যুবক। পবিত্র কোরআন পোড়ানোর প্রতিবাদস্বরূপ গত শুক্রবার সুইডিশ পুলিশের কাছে ইহুদিদের পবিত্র গ্রন্থ তোরাহ ও খ্রিস্টান ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ বাইবেল পোড়ানোর অনুমতি চান আহমাদ আলুশ (৩২) নামে এক ব্যক্তি। সুইডিশ পুলিশ ওই আবেদনকারীকেও ধর্মগ্রন্থ দুটি পোড়ানোর অনুমতি দেয়।

তোরাহ ও বাইবেল পোড়ানোর অনুমতি দেওয়ায় ইসরায়েলসহ বিভিন্ন ইহুদি সংগঠন নিন্দা জানানোর পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভও প্রকাশ করেছিল। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর তীব্র বিরোধিতা করেন। ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমি পবিত্র কোরআন পোড়ানোর নিন্দা জানিয়েছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, এখন ইহুদিদের চিরন্তন গ্রন্থের জন্যও একই পরিণতি অপেক্ষা করছে। আমি নিঃসংকোচে সুইডেনে পবিত্র গ্রন্থ পোড়ানোর এমন অনুমতি দেওয়ার নিন্দা জানাই।’ ইউরোপীয় ইহুদি কংগ্রেসও এর নিন্দা জানিয়ে বলে, কোনো সভ্যসমাজে উসকানিমূলক, বর্ণবাদী, ইহুদিবিদ্বেষী কাজের স্থান থাকতে পারে না।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎ জানায়, এসব আপত্তি-নিন্দার তোয়াক্কা না করে সুইডেনের ইসরায়েলি দূতাবাসের সামনে হাজির হন আলুশ। কিন্তু সবাইকে অবাক করে ওই মুসলিম যুবক তুরাহ কিংবা বাইবেলে আগুন না দিয়ে নিজের ধর্মগ্রন্থ কোরআন আঁকড়ে ধরেন, জানিয়ে দেন, ‘আমি কখনই কোনো ধর্মগ্রন্থ পোড়াব না। ইসলাম আমাকে এ শিক্ষা দেয় না। আর সত্যি বলতে, তোরাহ ও বাইবেল পোড়ানোর কোনো ইচ্ছাই আমার ছিল না। আমি শুধু আমার ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ কোরআন পোড়ানোর প্রতিবাদস্বরূপ এ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলাম।’