‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে’ হামলা, অভিযোগ হিরো আলমের এজেন্টের

ঢাকা-১৭ উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনেই হিরো আলমের ওপর শারীরিকভাবে হামলা করা হয়েছে।

হিরো আলম সোমবার বনানী এলাকায় একটি ভোটকেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন। বিকালে বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল ভোটকেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় হামলার শিকার হন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ৩টার দিকে বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়েছিলেন হিরো আলম। সেখানে তিনি একটি নারী ভোটকেন্দ্রে যান। এ সময় নৌকা প্রতীকের কর্মী ও সমর্থকেরা পেছন থেকে হিরো আলমকে গালমন্দ করতে থাকেন এবং কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে চলে যেতে বলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে কেন্দ্রটির দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা হিরো আলমকে ঘিরে রেখে স্কুলের ফটকের দিকে নিয়ে যান। তখনো পিছু নেন হামলাকারীরা।

স্কুলের প্রাঙ্গণ থেকে বেরুনোর পরে হিরো আলমের পাশে পুলিশ সদস্যরা ছিলেন না। স্কুল থেকে বের হয়ে ফটকের সামনে দিয়ে সোজা ১৬ নম্বর সড়কের দিকে দ্রুত এগোতে থাকেন হিরো আলম। একপর্যায়ে হামলাকারীরা হিরো আলমকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেন, তখন তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন তারা।

হিরো আলমের সঙ্গীরা তাকে রক্ষা করে সামনের দিকে নিয়ে যান। ২৩ নম্বর সড়কের এ ব্লক পর্যন্ত তাকে পেছন থেকে ধাওয়া করে হামলাকারীরা।

হিরো আলমের উদ্দেশে হামলাকারী নৌকার সমর্থকদের বলতে শোনা যায়, ‘সে করে টিকটক, সে হলো জোকার, সে কেন গুলশান-বনানীর এমপি হতে চায়? এমপির মানে সে জানে?’

কেউ কেউ আবার বলছিলেন, ‘তারে খালি দৌড়ানি দে, মারধর করা লাগব না।’

পরে হিরো আলমের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সামনেই স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিরো আলমের ওপর শারীরিকভাবে হামলা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘হিরো আলম এখন অচেতন অবস্থায় আছ। তাকে স্যালাইন ও ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে।’

প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মোহাম্মদ ইলিয়াস রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের সামনে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে সাংবাদিকদের এসব জানান।

তিনি জানান, হিরো আলমসহ হামলায় আহতেরা হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন।

হিরো আলমের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট বলেন, ‘যদি তারা নির্বাচনে জয়ীও হয়, তবুও তারা এই নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে এমন হামলা ন্যাক্কারজনক।’

তিনি জানান, তারা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সহযোগিতা পাননি। সকাল থেকে শুধু তাদেরকে আশ্বস্ত করা হয়েছে কিছু করা হবে কিছু করা হবে বলে।

তারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণাও দিয়েছেন।
হিরো আলম অভিযোগ করেছিলেন যে তার এজেন্টদের ‘ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে’ এবং তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে ‘আ.লীগ কর্মী ও নেতারা হয়রানি’ করেছে।

মডেল স্কুল ভোটকেন্দ্রে সোমবার সকালে সাংবাদিকদের হিরো আলম বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা আমার এজেন্টদের বের করে দিতে ভীতিজনক কৌশল অবলম্বন করেছে। তারা নারীসহ আমাদের কয়েকজন এজেন্টকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং তাদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেয়।’

কোন কোন কেন্দ্রে তার এজেন্টদের প্রবেশে সমস্যা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি ভাষানটেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, মাটিকাটা উচ্চ বিদ্যালয় ও জামিয়া মাদরাসা কেন্দ্রের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তবে তিনি বলেন, ‘যাই হোক, আমি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে থাকব।’