ডলার কেনাবেচায় ৮০% মুনাফা কমেছে প্রাইম ব্যাংকের

চলতি ২০২৩ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) বিদেশি মুদ্রা বিনিময় হার থেকে মুনাফা কমে গেছে বেসরকারি প্রাইম ব্যাংক লিমিটেডের। ২০২১ সালের প্রথমার্ধে ব্যাংকটি বিদেশি মুদ্রা বিনিময় থেকে ১৫০ কোটি টাকারও বেশি মুনাফা করেছিল, যা চলতি বছরের প্রথমার্ধে ৩০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এ হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বিদেশি মুদ্রা থেকে ব্যাংকটির আয় কমেছে ৮০ শতাংশ। অবশ্য বিনিয়োগ থেকে বিপুল পরিমাণের আয় বাড়ায় চলতি প্রথমার্ধে প্রাইম ব্যাংকের নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ শতাংশ বেড়েছে। ব্যাংকটির প্রথমার্ধের অনিরীক্ষিত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এ তথ্য মিলেছে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি প্রথমার্ধে কমিশন, এক্সচেঞ্জ ও ব্রোকারেজ বাবদ প্রাইম ব্যাংকের আয় হয় ১১৯ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২২৬ কোটি টাকা। এ খাতের আগের বছর আয় বেশি হওয়ার মূল কারণ ছিল বিদেশি মুদ্রা বিনিময় থেকে ব্যাপক মুনাফা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর দেশে বিদেশি মুদ্রা বিশেষ করে ডলারের সংকট তৈরি হলে ব্যাংকগুলো সুযোগ নিয়ে আমদানিকারকদের কাছে অনেক বেশি দরে ডলার বিক্রি করে বলে অভিযোগ উঠেছিল। এ পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তদন্ত করা হলে এর সত্যতাও মিলে। এরপর থেকে ডলারের দর বেঁধে দেওয়া হয়। যদিও তা অনেক ব্যাংক মানে না বলে সংক্ষুব্ধ আমদানিকারকরা জানিয়েছেন। তবে ডলারের দর কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এ কারণেই বিদেশি মুদ্রা বিনিময় থেকে ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত আয় কমে গেছে। তবে ঋণপত্র থেকে কমিশন আয় কিছুটা বেড়েছে।

চলতি বছর মুদ্রা বিনিময় থেকে আয় কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে কমিশন, এক্সচেঞ্জ ও ব্রোকারেজ খাতে। ২০২১ সালের প্রথমার্ধের তুলনায় চলতি প্রথমার্ধে এ খাতে আয় কমে গেছে ৪৭ শতাংশের বেশি।

এদিকে বিদেশি মুদ্রা কেনাবেচা থেকে আয় কমলেও বিনিয়োগ থেকে আয় বেড়েছে। মূলত সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ বাড়ায় চলতি প্রথমার্ধে এ খাতের আয় বেড়েছে। চলতি প্রথমার্ধে বিনিয়োগ থেকে আয় হয়েছে ২৬০ কোটি ৮২ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২০৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে বিনিয়োগ থেকে আয় বেড়েছে ২৭ শতাংশের বেশি। চলতি প্রথমার্ধে প্রাইম ব্যাংকের বিনিয়োগ খাত থেকে সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে সরকারি ট্রেজারি বিল, বন্ড ও রিভার্স রেপো থেকে, ১৯২ কোটি ৭২ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৭১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

চলতি প্রথমার্ধে সুদ আয়ও বেড়েছে ব্যাংকটির। এ সময় নিট সুদ আয় হয়েছে ৪৫৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪২১ কোটি ৩১ লাখ টাকা। বিনিয়োগ ও সুদ আয়ে ভর করে চলতি প্রথমার্ধে প্রাইম ব্যাংকের পরিচালন আয় দাঁড়িয়েছে ৮৬২ কোটি ৯১ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে মাত্র ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা বেশি। তবে চলতি প্রথমার্ধে পরিচালন ব্যয়, বিভিন্ন ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতি ও কর পরিশোধের পরিমাণ কমায় নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ শতাংশ বেড়েছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে প্রাইম ব্যাংকের সমন্বিত কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ২১৮ কোটি ৬১ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৮০ কোটি ১৮ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির সমন্বিত নিট মুনাফা বেড়েছে ৩৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বা ২১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৯৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ৫৯ পয়সা।

এদিকে চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির সমন্বিত কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১১৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৭৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ১ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৬৭ পয়সা। গত ৩০ জুন শেষে ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৮ টাকা ৫৬ পয়সায়, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ২৬ টাকা ১৯ পয়সা।

সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটি। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির সমন্বিত কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৩৯৯ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩২৫ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির সমন্বিত নিট মুনাফা বেড়েছে ৭৪ কোটি টাকা বা ২২ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৫৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ৮৭ পয়সা। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়ায় ২৮ টাকা ৪১ পয়সায়, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ২৬ টাকা ২৬ পয়সা।