গণমাধ্যম কতটা স্বাধীন জানতে চেয়েছে ইইউ

বাংলাদেশে সফররত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রাক-নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল সফরের দশম দিনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কয়েক দফায় বৈঠক করেছে। এসব বৈঠকের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে গণমাধ্যম কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করছে সে বিষয়ে জানার চেষ্টা করেছে। এ ছাড়া তাদের আগ্রহ ছিল ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন এবং গণমাধ্যমের বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে।

গতকাল সোমবার কয়েক দফায় সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তাদের আগ্রহ ছিল ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন এবং গণমাধ্যমের বাস্তবতা নিয়ে। প্রথম ধাপে হওয়া এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ডেইলি অবজারভার সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবির, দি বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড সম্পাদক ইনাম আহমেদ এবং প্রথম আলোর ইংরেজি সংস্করণের সম্পাদক আয়েশা সিদ্দিক।

বৈঠকে তারা জানান, বিভেদ থাকলেও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রশ্নে একমত সাংবাদিকরা। বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান ছিল, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যেন অবস্থান না নেওয়া হয়।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে বিভেদ থাকলেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সবারই উদ্বেগ আছে বলে ইইউ প্রতিনিধিদের জানানো হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য গণমাধ্যম ভূমিকা রাখবে ব‌লেও তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।

নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবির বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন নিশ্চিতে ইইউ প্রতিনিধিদের বাংলাদেশে আসতে হচ্ছে, বিষয়টি দুঃখজনক। তবে তাদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি, ফিরে গিয়ে তারা যেন এমন রিপোর্ট না দেয়, যা বাংলাদেশের জনগণ প্রত্যাশা করে না।’

পরে কূটনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ডিক্যাবের পাঁচ সদস্য মাসুদ করিম, এ কে এম মইনুদ্দিন, মোরশেদ হাসিব, মাহফুজ মিশু, পান্থ রহমান যান ইইউ দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে।

বৈঠক শেষে ডিক্যাবের সদস্যরা গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ২০১৪ সালে ইইউ পার্লামেন্টে জামায়াতকে সহিংসতাকারী দল হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও, ঢাকায় রবিবার জামায়াতের সঙ্গে বৈঠক কেন এই প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার ফিরে যাচ্ছেন ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান রিকার্ডো চালারি। তবে, দলের বাকি সদস্যরা ২৩ জুলাই পর্যন্ত অবস্থান করে বাংলাদেশের নির্বাচনের নানা বিষয়ে নিজেদের মতো করে তথ্য সংগ্রহ করবেন। এর আগে গত ৮ জুলাই ১৬ দিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছায় ইইউর তথ্যানুসন্ধানী দল।