বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করছে দুটি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে এক্স সিরামিকস লিমিটেড বিনিয়োগ করবে ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। আর ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করবে ডাইজিন অ্যাডভান্সড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড। গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে প্রতিষ্ঠান দুটির সঙ্গে ৩০ একর জমি দেওয়ার চুক্তি করে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। এতে সভাপতিত্ব করেন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন। এ সময় প্রতিষ্ঠান দুটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকরাও উপস্থিত ছিলেন।
শিল্পনগরে ২০ একর জমি পাচ্ছে এক্স সিরামিকস কোম্পানি। এখানে কারখানা স্থাপন হলে দেড় হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ডাইজিন কেমিক্যাল লিমিটেড নিচ্ছে ১০ একর জমি।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এক্স সিরামিকস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহিন বিন মাজহার বলেন, ‘আমাদের ২৫টি কারখানা রয়েছে। আমরা দেশে প্রথম এনটি সিøপ টাইলস নিয়ে আসি। এ খাতে এখন আমদানি কমিয়ে আমরা রপ্তানির দিকে যাচ্ছি। দেশ থেকে আমাদের মাধ্যমেই প্রথম টাইলস রপ্তানি হবে।’ জমি পাওয়ার দুই বছরের মধ্যে কারখানা স্থাপনের অঙ্গীকার করে তিনি ১০ কোটি ডলার রপ্তানি লক্ষ্যের কথা জানান। সে জন্য গ্যাসের নিশ্চয়তা দাবি করেন এই উদ্যোক্তা।
ডাইজিন অ্যাডভান্সড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমানুর রহমান বলেন, ‘৪০ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশের প্রথম সারির কেমিক্যাল কোম্পানি পরিচালনা করছি আমরা। এখানে তো অনেক নতুন ধরনের প্রযুক্তি দেশে এনেছি। আমদানির বিকল্প শিল্প গড়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করছি। বছরে বিভিন্ন খাতে ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি ডলারের কেমিক্যাল প্রয়োজন হয়।’ দেশের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী ধাপ কেমিক্যাল শিল্পের মাধ্যমে হবে বলে আশাবাদ ব্যাখ্যা করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে আমরা ১৩৭টি প্রতিষ্ঠানকে জমি দিয়েছি। এখন পর্যন্ত ছয়টি প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে এসেছে। বাকিরা কারখানা গড়ার কাজ করছে। ইউটিলিটি সেবা প্রদানকে মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা বিদ্যুতের সাব স্টেশন তৈরি করেছি। গ্যাসের কাজ চলমান রয়েছে। মেঘনা নদী থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহের জন্য এডিবির সহায়তায় কাজ চলমান রয়েছে।’
২০২৮ সালের মধ্যে পানির সম্পূর্ণ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। তবে এখন নলকূপের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো পানি উত্তোলন করছে। শিল্পনগরের জমি অধিগ্রহণ করে ফেলে রাখা যাবে না বলে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, এসিআই কোম্পানির ১০০ একর জমি বাতিল করা হয়েছে। বিসিক আর বেজা এক নয় বলে সতর্ক করেন। সিপিটি নির্মাণ নিয়ে বিজিএমইএর সঙ্গে টানাপড়েন চলছে বলেও জানান তিনি।