শাস্তি এড়াতে শত্রুদেশে!

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক বৈরী। প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্রকে শাসাতে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায় কিম জং উনের দেশ। গতকাল বুধবার পূর্ব সাগরের দিকে দুটি ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করে উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়া উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু সাবমেরিন মোতায়েনের কয়েক ঘণ্টা পরই এমন পদক্ষেপ নেয় পিয়ংইয়ং। তবে এসব ছাপিয়ে সবচেয়ে বড় উত্তেজনার বিষয় হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের এক সেনাসদস্যের উত্তর কোরিয়ায় পলায়ন। দুই কোরিয়ার কড়া নিরাপত্তাধীন পানমুনজাম সীমান্ত এলাকা দিয়ে গত মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ায় ঢুকে পড়েন ট্রাভিস কিং নামে যুক্তরাষ্ট্রের এক সেনা। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এড়াতে উত্তর কোরিয়া পালিয়ে গেছেন ট্রাভিস।

বিবিসি জানায়, ২৩ বছর বয়সী ট্রাভিসের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে মারামারি এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। তাই তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছিল। সিবিএস নিউজ জানায়, ওই সেনাকে পাহারা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ফিরিয়ে আনা হচ্ছিল। কিন্তু বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা পার হওয়ার পর তিনি কোনোভাবে সেখান থেকে বের হয়ে একটি পর্যটক দলের সঙ্গে সীমান্তের দিকে চলে যেতে সক্ষম হন। ওই দলের সঙ্গে ছিলেন এমন দাবি করা এক ব্যক্তি সিবিএস নিউজকে বলেন, তারা উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যবর্তী অসামরিক এলাকা পানমুনজাম গ্রামে ঘুরতে গিয়েছিলেন। তারা সবেমাত্র সেখানে একটি ভবন ঘুরে দেখেছেন। ওই সময় ‘ওই ব্যক্তি জোরে হা ‍হা হা করে ওঠেন এবং কয়েকটি ভবনের মাঝখান দিতে দৌড়ে চলে যান’। সিবিএস নিউজকে ওই প্রত্যক্ষদর্শী আরও বলেন, পানমুনজাম গ্রামে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনারা ওই ব্যক্তি দৌড়াতে শুরু করার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তার পিছু নিলেও তাকে ধরতে পারেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী বলছে, ট্রাভিস বর্তমানে উত্তর কোরিয়ার হেফাজতে আছে বলে বিশ্বাস তাদের। বিবিসির এক প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, ‘ট্রাভিস কী উদ্দেশ্যে উত্তর কোরিয়ার ঢুকলেন তা স্পষ্ট নয়। এ ঘটনা শত্রু দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সংকটের সৃষ্টি করবে। নজিরবিহীন এ ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকেও নড়চড়ে বসতে বাধ্য করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের একজন সেনাকে হাতে পেয়ে কিম হয়তো তাকে বাইডেনের সঙ্গে দরকষাকষির ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করবেন।’