দেশজুরে ডেঙ্গু জ¦রের ঊর্ধ্বগতির এ সময়েও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিডিউলে থাকা গ্রীষ্মকালীন ছুটি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। আজ বৃহস্পতিবার থেকে আগামী ২ আগস্ট দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রীষ্মকালীন এ ছুটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। দেশজুড়ে ডেঙ্গু বিস্তারের এই সময়ে ১২ দিনের ছুটি অনেকটা আশীর্বাদ হিসেবে বিবেচনা করছিলেন অভিভাবকরা। অনেকেই আবার ছুটি কাটাতে নানা প্রস্তুতি সম্পন্ন করেও রেখেছিলেন। কিন্তু গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় অনেকটা আকস্মিকভাবেই শিক্ষামন্ত্রী গ্রীষ্মকালীন ছুটি বাতিলের ঘোষণা দেন। এতে অভিভাবকদের মধ্যে অনেকটাই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষকদের আন্দোলন দমাতে এবং ডিসেম্বরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অজুহাতে এ কৌশল নিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নতুন শিক্ষাক্রমে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির পাঠদান ও মূল্যায়ন শেষ করতে হবে। এ ছাড়াও একই সময়ের মধ্যেই শেষ করতে হবে বিদ্যালয়গুলোর সব বার্ষিক পরীক্ষা। তাই মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রীষ্মকালীন ছুটি থাকছে না। নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে এ ছুটি আগামী শীতের ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান তিনি। একই সঙ্গে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ যাচাইয়ের জন্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে দুটি কমিটি করারও ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দুই কারণে সরকার গ্রীষ্মকালীন ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ডিসেম্বরে হতে পারে। তাই নভেম্বরের মধ্যে বার্ষিক পরীক্ষা শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষকদের আন্দোলন চলমান রয়েছে। অনেক স্কুল বন্ধ করে শিক্ষকরা আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। সরকার শিক্ষকদের স্কুলে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দিলেও তারা তা মানছেন না। এ অবস্থায় গ্রীষ্মকালীন ছুটি শুরু হলে শিক্ষকদের আন্দোলনের মাঠ থেকে সরানো কষ্টকর হয়ে পড়বে।
সভা শেষে ডা. দীপু মনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের আগেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিটি পূরণ করা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। এ ছাড়া বিশেষভাবে এই মুহূর্তে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক এই অবস্থার মধ্যে আর্থিক বিরাট একটি বোঝা কাঁধে নেওয়া কোনো সরকারের পক্ষেই সম্ভব নয়। নির্বাচন ও আর্থিক সমস্যা মাথায় রেখে কীভাবে, কোন পদ্ধতিতে জাতীয়করণ সম্ভব এবং আর্থিক সংশ্লিষ্টতা কতটুকু এই বিষয়গুলো দেখার জন্য দুটি কমিটি আমরা করে দিচ্ছি। এ ছাড়া শিক্ষকদের বেতনসহ বিভিন্ন খরচ বাবদ অনেক খরচই সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানসমূহে দেওয়া হয়, কিন্তু সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের আয় থেকে কোনো অর্থ নেয় না, এই পুরো ব্যাপারটি গবেষণা করে দেখারও বিষয় আছে।’
শিক্ষামন্ত্রী জানান, এই দুটো কমিটি করার জন্য উপযুক্ত বিশেষজ্ঞ খুঁজে বের করতে হবে আমাদের। আমরা আশা করি আগস্ট মাসের মধ্যে এই দুটো কমিটি গঠন করে দিতে পারব। তারপর কমিটিকে তাদের কার্যপরিধি ঠিক করে দিতে হবে এবং কাজসমূহ সম্পন্ন করার জন্য কমিটিকে সময় দিতে হবে।
জাতীয়করণের জন্য কমিটি করার ঘোষণা দিলেও আন্দোলন থেকে সরছেন না শিক্ষকরা। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচিস্থলে এসে শিক্ষক নেতারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে গতকাল তারা নবম দিনের মতো কর্মসূচি পালন করেন।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শেখ কাওছার আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা কমিটিতে শিক্ষক প্রতিনিধিদের রাখতে বলেছিলাম। কিন্তু আমাদের সে দাবি মানা হয়নি। আমাদের শিক্ষকরা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাই আমরা কর্মসূচি থেকে সরছি না। তবে আমাদের মানবতার নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তিনি আমাদের অভিভাবক। আমরা তার সঙ্গে ৫ মিনিটের জন্য সাক্ষাৎ করতে চাই। তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন তা আমরা মেনে নেব।’