ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনের দিন সংসদ সদস্য প্রার্থী আশরাফুল হোসেন ওরফে হিরো আলমকে বনানী বিদ্যানিকেতন কেন্দ্রের বাইরে একদল উচ্ছৃঙ্খল যুবক মারধর করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা বারো দেশের কূটনীতিক উদ্বেগ প্রকাশ করে যৌথভাবে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে যা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।
পশ্চিমা কূটনীতিকদের যৌথ বিবৃতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে লাভ নেই। হিরো আলমকে জোকার, ছোটলোক ইত্যাদি নানাভাবে বর্ণনা করা যেতেই পারে। তাই বলে নাগরিক হিসাবে তার অধিকারকে অস্বীকার করার উপায় নেই। সংবিধান অনুযায়ী হিরো আলমের সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে বাধা নেই। সংসদ সদস্য হতেও বাধা নেই। বগুড়া ৪ আসনের উপনির্বাচনে তার নিজের থানা কাহালুতে ৬৩ কেন্দ্রে জয়লাভ করে শেষ পর্যন্ত ৮৩৪ ভোটের ব্যবধানে না হারলে এখন তিনি সংসদেই থাকতেন।
একজন সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনের দিন হিরো আলমের সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। অথচ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে কেন্দ্রের বাইরে একদল খ্যাপাটে যুবকের হাতে তুলে দেন! ব্যাপারটা এমন যে, "নে, বাইরে নিয়ে মার"!
এ ছাড়া বগুড়া ও ঢাকার দুই উপনির্বাচনেই রিটার্নিং অফিসার হিরো আলমের প্রার্থিতার আবেদন বাতিল করে দেন, যা পরে আপিল করে পেয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা-রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের এই সব কাজ-কারবার দেখে বোঝা যায়, তাঁরা সরকারের প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে পারছে না বা করছে না।
এই সব ঘটনায় আমরা মর্মাহত হই। কারণ, এসবে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। স্বাধীন নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের প্রতিশ্রুতির প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হচ্ছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ পশ্চিমা অন্যান্য যেসব দেশ আগামী জানুয়ারিতে একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য সংসদ নির্বাচন দেখতে চায়, তারাও আস্থা হারাচ্ছে। এই সব ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে তাই যৌথভাবে বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছে।
গয়রহ এসবের বিরুদ্ধাচরণ না করে সরকারের এগুলো আমলে নেওয়া প্রয়োজন। গত সাড়ে চৌদ্দ বছরে দেশজুড়ে ব্যাপক উন্নয়ন ও জনকল্যাণের ওপর আস্থা রেখে আগামী সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের চ্যালেঞ্জ সরকারকে নিতেই হবে। আর এটাকে সকলের নিকট বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার সুযোগগুলো তাই এভাবে নষ্ট করা উচিত হচ্ছে না।
লেখক: শিক্ষক ও লেখক