প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত মানুষকে কিছু দিতে পারে না। তাদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করুন। গতকাল বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে লাকসাম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেলপথে ট্রেন চলাচলে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, জনগণ নৌকায় ভোট দিয়েছিল বলেই দেশের উন্নয়ন করতে পারছি। তাই জনগণকে বলব, সন্ত্রাসী বিএনপি-জামায়াতের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করুন। এরা সৃষ্টি নয়, ধ্বংস করতে পারে। লুটপাট করতে পারে, কিন্তু মানুষকে কিছু দিতে পারে না। আমরা চাই এদের হাত থেকে দেশবাসী রক্ষা পাক। আমরা তাদের রাজনীতিতে বাধা দিচ্ছি না। তবে রেল ও মানুষের ক্ষতি করলে, তারা কিন্তু ছাড় পাবে না। সব জায়গায় আমাদের ক্যামেরা থাকবে। একেবারে বেছে বেছে, ছেঁকে ছেঁকে তাদের শাস্তি দেওয়া হবে। এটা জাতীয় সম্পদ, এটা জনগণকে রক্ষা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে অলাভজনক বলে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে রেল বন্ধের পদক্ষেপ নিয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকারে এসে রেলের উন্নয়নে ব্যাপক পদক্ষেপ নেয়।
এটি আধুনিক ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, এর মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রাম সবটুকু লাইনই ডাবল লাইনে উন্নীত হলো। এতে যাত্রীরা আরাম-আয়েশে চলতে পারবে। পরিবহন খরচও কমে যাবে, এ পথে আগের চেয়ে এক ঘণ্টা সময় কম লাগবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন ঠেকানোর নামে বিএনপি অগ্নিসন্ত্রাসের মাধ্যমে রেল খাতের সম্পদ ধ্বংস করছে। আসলে ওরা সন্ত্রাসী, ওরা এটা ছাড়া কিছুই বোঝে না। এদের কাজই হলো ধ্বংস করা। সরকারপ্রধান ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে কুমিল্লার লাকসাম পর্যন্ত ৭২ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন উদ্বোধন করেন। এর মধ্য দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে নিরবচ্ছিন্নভাবে নতুন যুগের সূচনা হলো। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে আর কোনো ট্রেনকে ক্রসিংয়ে পড়তে হবে না। কমে আসবে ট্রেনযাত্রার সময়েও।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে স্টেশন প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন।
জানা গেছে, আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত ৭২ কিলোমিটার অংশে আগে একটি রেললাইন ছিল। এখন তা দুই লেন করা হয়েছে। এই ৭২ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ ৩২১ কিলোমিটার ডাবল লাইনে উন্নীত হলো। আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ডাবল রেললাইন নির্মাণ এবং বিদ্যমান রেললাইনকে ডুয়েলগেজ রূপান্তর প্রকল্পে খরচ হয়েছে ৫ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা। প্রায় সাত বছর সময় লেগেছে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় দুবার বাড়ানো হয়েছিল প্রকল্পের মেয়াদ।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই লাইনের ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে আন্তঃনগর ট্রেনের যাতায়াত সময় পৌনে এক ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা কমবে। দুই লেন চালুর পর থেকে সেখানে মিটারগেজের পাশাপাশি ব্রডগেজ ট্রেনও চলতে পারবে।