বিদেশিরা নিজেদের এ দেশের সম্রাট মনে করে : মোমেন

দেশে কিছু একটা হলেই বিদেশিরা চিৎকার শুরু করে এমন মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, ‘আমাদের মিডিয়াও বিদেশিদের খুব বেশি পাত্তা দেয়। ওরা কিছু বললেই বড় করে দেখে। এতে তারা মজা পায়। নিজেদের এ দেশের সম্রাট মনে করে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল শুক্রবার সিলেট শিল্পকলা একাডেমিতে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে বিদেশিদের মন্তব্য অযাচিত। তারা জেনেভা কনভেনশনের ধারেকাছে নেই। আমরা আশা করব আগামীতে অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে তারা আর হস্তক্ষেপ করবেন না।’ এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত ইলেকশনে ৪০ জনের মতো লোক মারা গেল। একটা দেশও কোনো কথা বলেনি। কিন্তু আমাদের দেশে কারে কে কী করল, সেটা নিয়ে হইচই শুরু করে। বিভিন্ন দেশে লোক মারা যায়, কিন্তু ইউএন (জাতিসংঘ) কিংবা বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত দল বেঁধে স্টেটমেন্ট দিতে দেখিনি।’ সাংবাদিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দেখে থাকলে বলেন।’ 

বিএনপির চলমান আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের উদ্বেগের বিষয়ে ড. মোমেন বলেন, ‘এটি ব্রিটিশ অর্গানাইজেশন। ব্রিটিশরা তাদের মতো কাজ করে। ইংল্যান্ডে পুলিশ কীভাবে অত্যাচার করে দেখেছেন। আমেরিকায় পুলিশ গলাটিপে মেরে ফেলে। সে তুলনায় আমাদের পুলিশ অত্যন্ত সহনশীল। তারা নিয়ম মেনে চলে। তবে একটা-দুইটা কেস হয়তো ভিন্ন হতে পারে।’

মন্ত্রী বলেন, বিএনপি আন্দোলনের নামে দেশের জানমালের ক্ষতি করলে পুলিশ সেটা রক্ষা করে। এটা তাদের দায়িত্ব। বিদেশিদের পাত্তা না দিতে সাংবাদিকদের পরামর্শ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এর আগে সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে পাঁচজন গুণী শিল্পীকে সম্মাননা পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমানের সভাপতিত্বে ও আবৃত্তিশিল্পী রোহেনা সুলতানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান, জেলা সংস্কৃতি কর্মকর্তা অসিত বরণ দাশগুপ্ত। সম্মাননা পদকপ্রাপ্ত শিল্পীরা হলেন মিহিরকান্তি চৌধুরী, পূর্ণিমা দত্ত রায়, চম্পক সরকার, জ্যোতি ভট্টাচার্র্য্য ও মিনু মিয়া।