এলডিসি উত্তরণের পরও শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্যবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী সিনেটর টিম আইরেস বলেছেন, অস্ট্রেলিয়া ২০২৬ সালে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের পরেও বাংলাদেশের রপ্তানির জন্য শুল্কমুক্ত বাজার প্রবেশাধিকার অব্যাহত রাখবে।

গত শুক্রবার সিডনিতে কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অফিসে অস্ট্রেলিয়ার সহকারী বাণিজ্যমন্ত্রী, সিনেটর টিম আইরেস এবং অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম আল্লামা সিদ্দিকী এবং বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসানের মধ্যকার অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশ, দেশ দুটি অংশীদারত্ব জোরদারকরণ এবং সম্ভাব্য ক্ষেত্রে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুদেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায়।

উভয়পক্ষই পারস্পরিক সুবিধা অর্জনের জন্য সুযোগগুলো খুঁজে বের করা এবং যৌথ সহযোগিতার মাধ্যমে সুযোগগুলো কাজে লাগাতে আগ্রহী।

বৈঠকে তারা সাধারণ বাণিজ্য ইস্যুগুলো, বিনিয়োগের সুযোগ এবং সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। অর্থনৈতিক বন্ধনে গতিশীলতা আনয়নের জন্য বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়ানোর উপায় খুঁজে বের করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।

বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন এবং এর সঙ্গে যুক্ত চ্যালেঞ্জ ও সেগুলো মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়।

অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্যবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী, সিনেটর টিম আইরেস আশ্বস্ত করেন যে, অস্ট্রেলিয়া ২০২৬ সালে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের পরেও বাংলাদেশের রপ্তানির জন্য শুল্কমুক্ত বাজার প্রবেশাধিকার অব্যাহত রাখবে।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বাংলাদেশকে উন্নয়নের পথে সহযোগিতা প্রদানের জন্য, বিশেষ করে এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জন্য অস্ট্রেলিয়ার শুল্কমুক্ত বাজারে প্রবেশাধিকার অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

বাণিজ্য সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে ফারুক হাসান বলেন, বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে পোশাক রপ্তানি, বিশেষ করে উচ্চমানের ফ্যাশন পণ্যের জন্য একটি প্রতিশ্রুতিশীল বাজার হিসেবে বিবেচনা করে।

তিনি বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়া থেকে তুলা ও উলের আমদানি বাড়ানোর বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ তুলে ধরেন এবং এ ব্যাপারে অস্ট্রেলিয়ার তুলা, উলের মতো কাঁচামাল রপ্তানিকারক এবং বাংলাদেশে আমদানিকারক ও উৎপাদনকারীদের মধ্যে শিল্প সংযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, এটি উভয় দেশের জন্য লাভজনক পরিস্থিতি তৈরি করবে।

বিজিএমইএ সভাপতি অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং ফ্যাশন ইনস্টিটিউটগুলোর সহযোগিতায় টেক্সটাইল, পোশাক, ফ্যাশন, ডিজাইন এবং ব্যবসা প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অফ ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউএফটি) শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বিকাশে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন।

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম আল্লামা সিদ্দিকী ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর অস্ট্রেলিয়া তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, এরপর থেকেই অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে।