ছয় বছর আগে চুক্তি হলেও তেমন অগ্রগতি নেই চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) প্রকল্পের। ঠিকাদার জটিলতায় বিদেশি বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পটির কাজ থমকে আছে। বাংলাদেশ ইকোনমিক জোনস অথরিটি (বেজা) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং একই সঙ্গে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ ও আনোয়ারায় চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এরপর চীন সরকার ইকোনমিক জোনের উন্নয়নকাজের জন্য ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান হিসেবে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিকে মনোনীত করে। ২০১৭ সালের জুন মাসে চায়না হারবারের সঙ্গে বেজার চুক্তি স্বাক্ষর হয়।
একই সময় চুক্তি স্বাক্ষর হলেও কর্ণফুলীর তলদেশে টানেল প্রকল্পের কাজ এখন প্রায় শেষপর্যায়ে। কিন্তু চায়না ইকোনমিক জোনের কাজের অগ্রগতি শূন্যের পর্যায়ে বললেও চলে। প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু টানেলের সংযোগ সড়কের সঙ্গে লাগোয়া চমৎকার লোকেশনে সিইআইজেড প্রকল্পটির অবস্থান। ৭৮৩ একর বিস্তীর্ণ পাহাড়ি জায়গার ওপর প্রকল্পটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা থাকলেও সাত বছরে সেখানে গড়ে ওঠেনি কোনো স্থাপনা। শুধু প্রকল্পের চারপাশে টিনের বেড়া ও ভেতরে কর্মকর্তাদের একটি একটি ছোট ভবন ছাড়া আর কিছুই হয়নি।
জানা গেছে, ঠিকাদার জটিলতায় টানা চার বছর থমকে ছিল চট্টগ্রামে চীন সরকারের সঙ্গে জি টু জি (সরকার টু সরকার) ভিত্তিতে বাস্তবায়নাধীন ‘চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ (সিইআইজেড) প্রকল্পের উন্নয়নকাজ। বেজা সূত্র জানায়, চুক্তির প্রথম তিন বছরে প্রকল্প এলাকার কিছু পাহাড়ি এলাকা সমান করা, পিএবি সড়ক থেকে ইকোনমিক জোন পর্যন্ত এবং বৈরাগ এলাকা থেকে ইকোনমিক জোন পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ এবং প্রকল্পের বৈরাগ অংশে প্রায় এক কিলোমিটার সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ছাড়া আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। এরপর কভিড শুরুর পর প্রকল্পের কাজের আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। এ নিয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান চায়না হারবারের সঙ্গে বেজার দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এর ফলে করোনা পরিস্থিতির উন্নতির পরও প্রকল্পের কাজ থমকে থাকে। একপর্যায়ে বেজা ঠিকাদার পরিবর্তনের জন্য চীন সরকারকে অনুরোধ জানায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে চীনা কর্তৃপক্ষ নতুন ঠিকাদার হিসেবে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনকে মনোনীত করে। গত বছর ১১ আগস্ট চায়না ব্রিজের সঙ্গে বেজার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। এরপর বিভিন্ন বিষয়ে নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।
এদিকে, বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটির নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন গত সপ্তাহে সরেজমিনে চায়না ইকোনমিক জোন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। বেজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশতিয়াক ইমন, সহকারী ভূমি কমিশনার আবদুল্লাহ আল মুমিন এ সময় উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনকালে বেজা চেয়ারম্যান বলেন, নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের পর প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আমরা আশাবাদী। এ সময় তিনি দ্রুত প্রকল্পের মাস্টারপ্ল্যান জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এলাকার লোকজনের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিতে বিপ্লব হবে।
আনোয়ারা উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, আনোয়ারায় চায়না ইকোনমিক জোন অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি প্রকল্প। এখানে যেসব শিল্প স্থাপনের কথা রয়েছে, তা বাস্তবায়ন হলে ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকার পর নতুন ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে কাজ শুরু হচ্ছে। আশা করি, এবার প্রকল্পের কাজে উল্লেখযোগ্য গতি আসবে।
জানা যায়, চায়না ইকোনমিক জোনে ফার্মাসিউটিক্যাল, গার্মেন্টস, আইটি, রাসায়নিক দ্রব্য, টেলিযোগাযোগ, কৃষিনির্ভর শিল্প, প্লাস্টিক পণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের ৩৭১টি শিল্প স্থাপনের কথা রয়েছে।