সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি আদায়ে আগামী বৃহস্পতিবার মহাসমাবেশের দিন রাজধানী ঢাকার রাজপথের দখলে নিতে চায় বিএনপিসহ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। অবশ্য, সমাবেশ শেষ করে তারা ফিরে যাবেন। মহাসমাবেশে আসতে বাধার মুখে পড়ার আশঙ্কায় আগেভাগেই নেতাকর্মীদের ঢাকায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি।
বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর নেতারা বলেছেন, সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা জড়ো হবেন সমাবেশস্থলে। বক্তৃতাপর্ব শুরু হবে দুপুরের পর।
মহাসমাবেশ সামনে রেখে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা জানিয়েছেন রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা।
কর্মসূচির বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘২৭ জুলাই দিনব্যাপী রাজধানী ঢাকার রাজপথে থাকবে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলার দখলে। তবে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ শেষে আমরা ঘরে ফিরে যাব। আশা করি সরকার আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।’
সরকারবিরোধী বিভিন্ন দলের নেতারা, ‘ইতিমধ্যে কেউ কেউ অতীতের মতন নানা জল্পনা-কল্পনা করছে এই বলে যে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো হয়তো বসে পড়বে। এমন কোনো চিন্তাভাবনা তাদের নেই। শান্তিপূর্ণভাবে শুধুই সমাবেশ হবে। সেখান থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা হবে।’
তারা বলেন, মহাসমাবেশে সারা দেশ থেকে দলের নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসবেন। বিএনপি নয়াপল্টন কিংবা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করবে। গণতন্ত্র মঞ্চ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অথবা মৎস্য ভবন এলাকায়, ১২-দলীয় জোট বিজয়নগর পানির ট্যাংকি এলাকায়, গণফোরাম মতিঝিলের আরামবাগে, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এফডিসি গেটসংলগ্ন এলাকায়, সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো পল্টন মোড় থেকে কাকরাইল মোড়ের মাঝামাঝি এলাকায় সমাবেশ করবে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের মহাসমাবেশ হবে শান্তিপূর্ণ। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের বাইরে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ওইদিন রাজপথে পৃথকভাবে সমাবেশ করবে।’
পরবর্তী কর্মসূচি কী হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখনো আমরা চূড়ান্ত করতে পারিনি। আন্দোলনে শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে।’
তবে বিএনপি নেতারা বলছেন, সংঘাতের মতো ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি অনুযায়ী কর্মসূচি দেওয়া হবে। সেটা লাগাতার হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ঢাকাতেই কর্মসূচি বেশি রাখা হবে। এ ছাড়া আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন দেশ রূপান্তরকে বলেন, যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলোর বাইরে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (এনডিএম) সমাবেশের কর্মসূচি পালন করবে বলে জানিয়েছে। তারা তাদের মতো প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, বিএনপিসহ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সমাবেশের কর্মসূচি দিলে অধিকাংশ সময় পরিবহন বন্ধ করে দেয়, পথে পথে তল্লাশিসহ সরকারের দিক থেকে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। গত ১২ জুলাই সমাবেশের দিন সদরঘাট, গাবতলীয়, যাত্রাবাড়ী এলাকায় সমাবেশে যোগ দিতে আসা নেতাকর্মীদের মোবাইল চেক করা হয়েছে। এসব ঝামেলা এড়াতে নেতাকর্মীদের আগেভাগেই ঢাকায় আসতে বলা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার এবং আগামীকাল বুধবারের মধ্যে ঢাকার বাইরের নেতাকর্মীরা রাজধানীতে পৌঁছে যাবেন। ঢাকার বাইরে থেকে আগত নেতাকর্মীরা নিজ নিজ উদ্যোগে সুবিধাজনক জায়গায় অবস্থান নেবেন।
মহাসমাবেশ সফল করতে গতকাল যৌথসভা করেছে বিএনপি। এ ছাড়া সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণফোরামসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল। জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) ঢাকার বাইরে থেকে আসা নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে গান, কবিতা পাঠ, মঞ্চ নাটকসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করছে।
গণতন্ত্র মঞ্চের শরিক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা মহাসমাবেশের জন্য জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অথবা মৎস্য ভবনের সামনে অনুমতি চাইব। যেখানে অনুমতি দেবে সেখানেই কর্মসূচি পালন করবে তারা। কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে গণতন্ত্র মঞ্চের শরিক দলগুলো দফায় দফায় বৈঠক করছে।’
সদ্য বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারবিরোধীদের সঙ্গে যোগ দেওয়া এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা ২৭ জুলাই বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে সমাবেশ করব। বেলা ১১টায় এ সমাবেশ শুরু হবে। সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছি। ইতিমধ্যে সমাবেশস্থলের কথা বিএনপিকে জানিয়ে দিয়েছি।’
নয়াপল্টন বা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান চায় বিএনপি : মহাসমাবেশের জন্য জায়গা চেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে চিঠি দিয়েছে বিএনপি। এতে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অথবা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার কথা বলেছে। গতকাল বিকেলে এই চিঠি দেওয়া হয় বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছে রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।