একতরফা নির্বাচনের অভিযোগে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ কম্বোডিয়ায় কিছু ব্যক্তির ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই সঙ্গে বিদেশি কিছু সহায়তা কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। গত রবিবার নির্বাচনে দেশটির ক্ষমতাসীন দল কম্বোডিয়ান পিপলস পার্টি (সিপিপি) নিরঙ্কুশ বিজয় ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপ নিল।
রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, দেশটিতে গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির অবনতির কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গণতন্ত্রের মর্যাদা নষ্ট করার মতো পরিস্থিতির সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেছেন, কম্বোডিয়ার নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের কম্বোডিয়ান পিপলস পার্টির (সিপিপি) কোনো শক্ত বিরোধী দল নির্বাচনে ছিল না।
মিলার আরও বলেন, নির্বাচনের আগে কম্বোডিয়ার সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দল গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে হুমকি দিয়েছে এবং হয়রানি করেছে। দেশটির সংবিধানের মর্যাদা এতে ক্ষুন্ন হয়েছে। কম্বোডিয়ার নির্বাচন আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হয়নি। মিলার কম্বোডিয়ার সরকারকে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছেন।
৩৮ বছর ধরে কম্বোডিয়ার ক্ষমতায় রয়েছেন হুন সেন। এবারের নির্বাচনেও সিপিপির জয়ে হুন সেনের ছেলে হুন মানেটের ক্ষমতায় আসার পথ প্রশস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হুন মানেট এখন কম্বোডিয়ার সেনাবাহিনীর প্রধানের দায়িত্বে আছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, ছেলের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ নির্বিঘ্নে সব বাধা অপসারণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ৭০ বছর বয়সী হুন সেন অবশ্য কবে নাগাদ হুন মানেট দায়িত্ব পেতে পারেন, তার সময়সীমা জানাননি। গত বৃহস্পতিবারই প্রথম তিনি মানেট ‘তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে’ প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন এমন ইঙ্গিত দেন।
বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, এবার ক্ষমতায় যাওয়ার পর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে হুন সেন তার ৪৫ বছর বয়সী ছেলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। এর মধ্যে মানেট জনসাধারণ ও রাজনীতিতে প্রভাবশালীদের কাছে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর এবং ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি নেওয়া মানেট ওয়েস্ট পয়েন্ট মিলিটারি অ্যাকাডেমিতেও পড়াশোনা করেছেন, যা তাকে কম্বোডিয়ার সেনাপ্রধান ও সশস্ত্র বাহিনীর উপপ্রধান হওয়ার পথে সহায়তা করে। তিনি শেষ পর্যন্ত বাবার মতো কর্র্তৃত্ববাদী শাসনে দেশ চালানোর পথ বেছে নেবেন, নাকি উদারনীতি ও পশ্চিমা গণতন্ত্রের পথে দেশকে এগিয়ে নেবেন, তার দিকে বিশ্বের বড় বড় পরাশক্তি তাকিয়ে থাকবে। রয়টার্স বলছে, হুন সেনের সময়ে কম্বোডিয়া যেভাবে চীনের ছায়াতলে আছে, তার ছেলে তা থেকে বেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হাত ধরতে চাইবেন কি না, তার ওপর অনেকেরই নজর থাকবে।