বিচারপতিকে ‘মাই লর্ড’ সম্বোধন না করার নির্দেশ

উচ্চ আদালতে আইনজীবীরা মামলার শুনানির সময় বিচারপতিদের ‘মাই লর্ড’ কিংবা ‘ইওর লর্ডশিপ’ সম্বোধন করেন। দীর্ঘ দিন ধরে এমন প্রথা চলে আসছে। কিন্তু এ বিষয়ে ব্যতিক্রম এক নির্দেশনা এসেছে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ থেকে। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে এই বেঞ্চে বিচারপতিদের  উদ্দেশে ‘মাই লর্ড’ বা ‘ইওর লর্ডশিপ’ সম্বোধনের প্রয়োজন নেই। এর স্থলে ‘ইওর অনার’ শব্দ চয়ন সম্বোধন করতে হবে। এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে বেঞ্চের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে একটি বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির ভাষ্য, ‘অত্র বেঞ্চে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের “মাই লর্ড” অথবা “ইওর লর্ডশিপ”-এর স্থলে “ইওর অনার” সম্বোধন  করার নির্দেশ প্রদান করা হলো।’ তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, এটি বাধ্যতামূলক নয়, নির্দেশনামূলক। হাইকোর্টের এই বেঞ্চের এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন আইনজীবীরা। অনেক আইনজীবী বিজ্ঞপ্তির বিষয়টি উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে বিচারপতিদের প্রশংসা করছেন।

গতকাল সকালে এই বেঞ্চে বিচারকাজ শুরু হলে বিষয়টির অবতারণা হয়। উপস্থিত একাধিক আইনজীবী দেশ রূপান্তরকে বলেন, মামলার মোশনের (শুনানি করতে উপস্থাপন) সময় আইনজীবীরা বরাবরের মতোই ‘মাই লর্ড’ সম্বোধন করেন। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক এ সময় এই শব্দ চয়নে আপত্তি জানান। আইনজীবীদের উদ্দেশে বিচারপতি বলেন, ‘এই বেঞ্চে এই শব্দ চয়নের পরিবর্তে “ইওর অনার” সম্বোধন করবেন।’ এরপর বেলা ৩টার দিকে এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয় হাইকোর্টের এই বেঞ্চ থেকে।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবুল হাশেম ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহফুজুর রহমান লিখন। মাহফুজুর রহমান লিখন দেশ রূপান্তরকে বলেন, বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এ সময় বলেন, ‘আমরা এখন আর ব্রিটিশ আমলে নেই।’ তার বেঞ্চে ‘ইওর অনার’ শব্দটি সম্বোধন করতে বলেন এবং এ বিষয়ে বেঞ্চের দুই বিচারপতি একমত হয়েছেন বলে আইনজীবীদের বলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের ১৯৮২ সালের একটি বিজ্ঞপ্তি উল্লেখ করেন। সেখানে ওই সময়ের প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় বলা আছে, উচ্চ আদালতের বিচারকদের ‘মাই লর্ড’ ও ‘ইওর লর্ডশিপ’-এর স্থলে ‘ইওর অনার’ সম্বোধন করতে হবে।