বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, ‘সরকার পতনের এক দফা দাবি আদায়ে বৃহস্পতিবারের মহাসমাবেশ রুখে দিতে সরকার নতুন চক্রান্ত করছে। আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, এসব কথা বলে আপনারা যদি আবার জনগণের ওপর অস্ত্র ব্যবহার করেন, তার সব দায়-দায়িত্ব আপনাদের বহন করতে হবে এবং জনগণ তার উত্তর দেবে।’
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইউনাইটেড ল’ইয়ার্স ফ্রন্টের উদ্যোগে ‘গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা’ শীর্ষক এক আইনজীবী সমাবেশে তিনি এ অভিযোগ করেন।
‘বিএনপি বাংলাদেশে অরাজকতা সৃষ্টি করার জন্য সীমান্তে অস্ত্র জড়ো করছে’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন রুখে দেওয়ার জন্য সরকার নতুন চক্রান্ত শুরু করেছে। তার বক্তব্য ভয়ংকর। কোন সময়ে তিনি এ অভিযোগ করছেন? যখন জনগণ জেগে উঠছে, যখন জনগণ তাদের চূড়ান্ত আন্দোলন শুরু করেছে তাদের অধিকার আদায়ের জন্য, ঠিক সেই সময়ে এ কথা বলে তারা নতুন একটা চক্রান্ত, একটা ষড়যন্ত্র শুরু করার পাঁয়তারা করছেন।’
সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ‘আমরা ২৭ তারিখে যে মহাসমাবেশ ডেকেছি সেই মহাসমাবেশ হবে শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশ। কোনো চক্রান্ত করে, কোনো ষড়যন্ত্র করে, কোনো সহিংসতা করে এ মহাসমাবেশকে নস্যাৎ করা যাবে না।’
গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আইনজীবীদের শরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের ওপরে যে পবিত্র দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, এই দেশ ও দেশমাতৃকা আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে যে, বাংলাদেশের জনগণকে মুক্ত করতে হবে।’ এ সময় তিনি দেশের বিচারব্যবস্থায় দলীয়করণসহ সরকারের কর্তৃত্ববাদী শাসনে চিত্র তুলে ধরেন।
সভায় জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘দেশ এখন সংবিধানের অধীন নয়, যারা ক্ষমতায় আছে তারা জনগণের সম্মতি নিয়ে আসেনি। বেআইনিভাবে আছে, অবৈধভাবে আছে, এ সরকার অবৈধ সরকার। আপনাদের আর ক্ষমতায় থাকতে দেওয়া হবে না। ’
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আন্দোলনে টেউ লেগেছে।’
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী বলেন, ‘লড়াইটা খুব পরিষ্কার। এ লড়াইয়ে শাসকরা ভয় দেখাতে চাচ্ছেন।’
বিরোধী দল ও ভিন্নমতের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলার প্রসঙ্গ টেনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘খুব দুঃখ লাগে দেশটাকে আজকে কোন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমরা যখন এসব পরিস্থিতি দেখি তখন সবচেয়ে দুঃখ লাগে।’
ইউনাইটেড ল’ইয়ার্স ফ্রন্টের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে এবং সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম সজল, সৈয়দ মামুন মাহবুবের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, গণফোরামের অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, পিপলস পার্টির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। আইনজীবীদের মধ্যে বক্তব্য দেন ইউনাইটেড ল’ইয়ার্স ফ্রন্টের অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, মহসিন রশিদ, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, জসিম উদ্দিন সরকার, শাহ আহমেদ বাদল, আবদুল জাব্বার ভূঁইয়া, রুহুল কুদ্দুস কাজল, মহসিন মিয়া, খোরশেদ আলম, মোহাম্মদ আলী, ওমর ফারুক ফারুকী, আবদুল লতিফ তালুকদার প্রমুখ।