উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নিজ নামে প্রতিষ্ঠিত তিনটি ট্রাস্ট থেকে দান করা অর্থের বিপরীতে তিন করবর্ষে আয়কর কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক আরোপিত দানকরের ১২ কোটি ৪৬ লাখ ৭২ হাজার ৬০৮ টাকা পরিশোধ করেছেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
গতকাল মঙ্গলবার ড. ইউনূসের প্রতিনিধি মো. রুহুল আমীন সরকার আয়কর অধ্যাদেশ ১৭৪(২) ধারা অনুযায়ী কর অঞ্চল-১৪-এর সার্কেল ২৮৭-এ টাকা পরিশোধ করেন। সাউথইস্ট ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখার মাধ্যমে পে-অর্ডারে এ টাকা জমা দেওয়া হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, এর আগে এনবিআর-আরোপিত দানকর বৈধ ঘোষণা করা রায়ের বিরুদ্ধে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আপিলের অনুমতি চেয়ে (লিভ টু আপিল) করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ রায় দেয়। রায়ের ফলে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ১২ কোটি টাকা দানকর বাবদ এনবিআরকে পরিশোধ করার কথা।
২১ জুন হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন ড. ইউনূস। গত ১৭ জুলাই প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে আপিল বিভাগ ২৩ জুলাই শুনানির জন্য দিন রাখেন। সে অনুযায়ী শুনানি হয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। ড. ইউনূসের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ফিদা এম কামাল ও ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন।
১৯৯০ সালের দানকর আইন অনুযায়ী ২০১১-১২ করবর্ষে ৬১ কোটি ৫৭ লাখ ৬৯ হাজার টাকা দানের বিপরীতে প্রায় ১২ কোটি ২৮ লাখ ৭৪ হাজার টাকা কর দাবি করে কর অঞ্চলের ২৮৭ সার্কেল থেকে চিঠি পাঠানো হয়। এতে ২০১২-১৩ করবর্ষে ৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা দানের বিপরীতে ১ কোটি ৬০ লাখ ২১ হাজার টাকা দানকর দাবি করা হয়। আর ২০১৩-১৪ করবর্ষে ৭ কোটি ৬৫ হাজার টাকা দানের বিপরীতে ১ কোটি ৫০ লাখ ২১ হাজার টাকা কর দাবি করে নোটিস দেয় এনবিআর।
দানের বিপরীতে কর দাবি করে এনবিআরের এসব নোটিসের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আপিল ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন ড. ইউনূস। তার দাবি, আইন অনুযায়ী দানের বিপরীতে এনবিআর এ কর দাবি করতে পারে না। এরপর ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর তার আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। এরপর ২০১৫ সালে তিনি হাইকোর্টে তিনটি আয়কর রেফারেন্স মামলা করেন। মামলাগুলোর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে দানকর দাবির নোটিসের কার্যকারিতা স্থগিত করে ২০১৫ সালে রুল জারি করে হাইকোর্ট। ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে মৃত্যু ও পরিবারের সদস্যদের কল্যাণ চিন্তা করে নিজের নামে প্রতিষ্ঠিত তিনটি ট্রাস্টে যে টাকা দান করেছেন, সে দানের বিপরীতে এনবিআরের আরোপ করা দানকর বৈধ ঘোষণা করে গত ৩১ মে রায় দেয় হাইকোর্ট।
৩১ মে রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস তিন প্রতিষ্ঠানে ৭৭ কোটি টাকা দান করেছিলেন। ড. ইউনূস বলেছিলেন, এর বিপরীতে কর দিতে হবে না। কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমরা বলেছি, দিতে হবে।’ এ কারণে এনবিআর ড. ইউনূসকে নোটিস দিয়েছিল। এনবিআরের দাবি করা কর তাকে দিতে হবে।
এনবিআর ১৫ কোটি টাকার বেশি দাবি করেছিল। ইতিমধ্যে তিনি তিন কোটি টাকার মতো দিয়েছেন। বাকি ১২ কোটি টাকার বেশি কর পরিশোধ করার কথা। শেষ পর্যন্ত ড. ইউনূস টাকা পরিশোধ করেছেন।