রবির মুনাফা বেড়েছে ১৪০%

দেশের দ্বিতীয় শীর্ষ মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটার সমন্বিত আয় ও মুনাফা বেড়েছে। চলতি ২০২৩ হিসাববছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) তালিকাভুক্ত এ কোম্পানির নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৪০ শতাংশ বেড়েছে। মূলত মুদ্রা বিনিময় হারে লোকসান কমায় নিট মুনাফা বেড়েছে। গতকাল বুধবার প্রকাশিত রবি আজিয়াটার প্রথমার্ধের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এমন তথ্য মিলেছে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি প্রথমার্ধে ভয়েস কল, ডেটাসহ অন্যান্য সেবা থেকে রবি আজিয়াটার আয় হয়েছে ৪ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেবা, আন্তঃসংযোগ ও রোমিং চার্জ, রাজস্ব ভাগাভাগি, তরঙ্গ ও লাইসেন্স ফি, পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে। এসব খাতে চলতি প্রথমার্ধে ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২১ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। একই সময়ে প্রশাসনিক, বিক্রয় ও বিতরণ ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে। চলতি প্রথমার্ধে পরিচালন ব্যয় সমন্বয় শেষে পরিচালন আয় দাঁড়িয়েছে ৬৭৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।

পরিচালন আয় বাড়লেও এ সময় অপারেটরটির ঋণের সুদ ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। চলতি প্রথমার্ধে ব্যাংক ঋণের সুদবাবদ রবির ব্যয় হয়েছে ৩০৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২০৮ কোটি টাকা। তবে চলতি প্রথমার্ধে রবির মুনাফা বাড়াতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে বিদেশি মুদ্রার লেনদেনজনিত লোকসান। আগের বছরের তুলনায় এ খাতে শতকোটি টাকারও বেশি লোকসান কমে আসায় মুনাফা বেড়েছে। চলতি প্রথমার্ধে বিদেশি মুদ্রার লেনদেনজনিত ক্ষতি হয়েছে ৮১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৮২ কোটি টাকারও বেশি। এ সময় অপরিচালন আয়ও সামান্য বাড়লেও কর পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে।

মুনাফায় কর্মীর হিস্যা ও কর পরিশোধের পর চলতি প্রথমার্ধে রবি আজিয়াটার সমন্বিত নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১৪০ শতাংশ বেশি।

২০২২ সালে রবির নিট মুনাফা ছিল ১৯৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এ সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৩৫ পয়সা। চলতি প্রথমার্ধে কোম্পানিটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ১৩ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫ পয়সা। চলতি প্রথমার্ধে ইপিএস বাড়লেও এর শেয়ারে কোনো প্রভাব পড়েনি। গত বছর ৪ আগস্ট থেকে কোম্পানিটির শেয়ার ৩০ টাকা ফ্লোর প্রাইসে আটকে আছে। গতকালও এ অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৫ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় মূলধনী কোম্পানি।