ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেছেন, মানুষকে কষ্ট না দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সমাবেশ করা উচিত। জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে গেলে সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার প্রয়োজন পড়তে পারেÑ ভবিষ্যতে হয়তো এমন সময়ও আসবে।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ নয়টি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তাদের সভা-সমাবেশের জন্য আমরা আবেদন পেয়েছি। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে, পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে কয়েকটি দলকে অনুমতি দেওয়া হবে। সমাবেশ করা যেমন গণতান্ত্রিক অধিকার, তেমনি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও ঢাকা মহানগর পুলিশের দায়িত্ব ও কর্তব্য।’
গতকাল বুধবার পুরান ঢাকার হোসেনি দালানের সামনে ২৯ জুলাই পবিত্র আশুরার নিরাপত্তা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার।
খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ‘আমি সব রাজনৈতিক দলকে অনুরোধ করব, কর্মদিবসে সমাবেশ করা মানে রাজধানী অচল করে দেওয়া, লাখ লাখ মানুষকে রাস্তায় যানজটে আটকে রাখা। এসব বিষয় মাথায় রেখে তারা যেন সভা-সমাবেশ বন্ধের দিনে করেন।’ তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের সমাবেশে যারা আসবেন, তারা যেন কোনোভাবেই লাঠিসোঁটা ও ব্যাগ নিয়ে না আসেন। ব্যাগে বিস্ফোরক থাকতে পারে, নাশকতা হতে পারে। নিরাপত্তার স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোকে অনুরোধ করব, আপনারা জনগণকে কষ্ট না দিয়ে সমাবেশ করুন।’
২০১৫ সালে তাজিয়া মিছিলে বোমা-বিস্ফোরণ হয়েছিল উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ধর্মীয় উগ্রবাদীরা ও জঙ্গিবাদীরা ওই ঘটনা ঘটিয়েছিল। তারপর থেকে সমাবেশ-অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখি। আবার যাতে কোনো জঙ্গিগোষ্ঠী এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে না পারে। সে প্রেক্ষাপটেই আজ (গতকাল) আমরা এখানে ঘুরে ঘুরে নিরাপত্তাব্যবস্থা দেখলাম।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ইমামবাড়া এলাকা সিসি-ক্যামেরার আওতায় নিয়ে এসেছি। রাস্তাগুলো সিসি-ক্যামেরার আওতায় থাকবে। এই এলাকার সামনে-পেছনে সাদা পোশাকে ও পোশাক পরিহিত পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকবে। পুরো এলাকা আমরা ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমে সুইপিং করাব। মেশিনের সাহায্যে ম্যানুয়ালি সুইপিং করাব, যাতে কোনো দুষ্কৃতী এখানে কোনো দুর্ঘটনা ঘটাতে না পারে।’
আজ ও ২৯ জুলাই শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান পালিত হবে বলে ডিএমপি কমিশনার আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আয়োজকদের প্রতি আমাদের কিছু পরামর্শ আছে। তাজিয়া মিছিলে যেন উচ্চৈঃস্বরে ঢাকঢোল বাজানো না হয়। চাদরে গা ঢেকে কোনো লোক যেন চলাফেরা না করে। শরীরে আঘাত করে জখম করার দৃষ্টিকটু বিষয় এড়িয়ে চলাই ভালো। আয়োজকদের এসব বিষয়ে বলেছি। উনারাও কিছু নিরাপত্তা-পরামর্শ আমাদের দিয়েছেন।’