জাতিগত সহিংসতায় ক্ষতবিক্ষত ভারতের মণিপুর রাজ্য। সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতেই এবং পাহাড়ে বসবাসকারী গোষ্ঠী কুকিদের মধ্যে গত মে থেকে শুরু হওয়া চরম সহিংসতা নাড়িয়ে দিয়েছে ভারতকে। এরপর গত ১৯ জুলাই প্রকাশিত এক ভিডিওতে দুই নারীকে বিবস্ত্র করে বর্বর নির্যাতন নাড়িয়ে দেয় গোটা বিশ্বকে। তবে সহিংসতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত সব ছবি, ভিডিওই যে সত্য বা মহৎ উদ্দেশে প্রচারিত হয়নি তা বেরিয়ে এসেছে বিবিসির এক প্রতিবেদনে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, মণিপুরে সংঘাত উসকে দিতে বেশ কয়েকটি বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ছবি ঘুরে বেড়িয়েছে অনলাইনে। রাজ্যে অশান্তি ছড়ানোর ভয়ে ভারত সরকার সেখানে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিলেও ফাঁকফোকর দিয়ে ঠিকই ছড়িয়েছে গুজব। এসব গুজবের বেশিরভাগই ছিল সহিংসতায় নারীদের যৌন নির্যাতন বিষয়ক। অর্থাৎ জাতিগত আবেগকে নাড়া দিয়ে সহিংসতা বাড়িয়ে দিতে বেছে নেওয়া হয় নারী নিপীড়নের মতো ঘটনাকে। মণিপুর সহিংসতায় ব্যবহৃত এরকম কয়েকটি গুজবের সত্য উদঘাটন করেছে বিবিসি।
মণিপুর সহিংসতায় ৩ মে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার পরও সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট ঘুরে বেড়ায়, যেখানে লাগেজ বন্দি এক তরুণীর মরদেহের ছবি দিয়ে প্রচার চালানো হয়, এই মেইতেই নার্সকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। অথচ ছবিটি গত বছরের নভেম্বরে দিল্লিতে বাবা-মায়ের হাতে খুনের শিকার ২১ বছরের তরুণী আয়ুশি চৌধুরীর মরদেহের ছবি!
আরেকটি প্রচারণায় দাবি করা হয়, ধর্ষণের পর হত্যার শিকার ৩৭ জন মেইতেই নারী এবং ৭ বছরের এক কন্যাশিশুর লাশ মণিপুরের শিজা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে। কিন্তু হাসপাতালটির কর্র্তৃপক্ষ বিবিসিকে জানায়, সে রকম কোনো ঘটনাই ঘটেনি। আর যেহেতু হাসপাতালটি বেসরকারি, তাই ময়নাতদন্তের এখতিয়ারই তাদের নেই।
বিবিসি বলছে, প্রায় একই শব্দ ব্যবহার করে এরকম গুজব রটানো টুইটার অ্যাকাউন্টগুলো তদন্ত করে দেখা গেছে এগুলোর বেশিরভাগই নতুন খোলা অ্যাকাউন্ট। এছাড়া মণিপুর সহিংসতায় গুজব রটাতে ব্যবহৃত হয়েছে ভারতে গুজবের জন্য কুখ্যাত মাধ্যম হয়ে ওঠা বার্তামাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ। এমনকি জুনের শেষ দিকে গুজব ছড়াতে মিয়ানমারে জান্তার গুলিতে এক নারী নিহতের ভিডিওকে মণিপুরের বলে চালিয়ে দেওয়া হয়।
এমনকি দুই নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও প্রকাশের পর সেই ঘটনায় একজন মুসলিম পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও গুজব রটানো হয়। দুই নারীকে নির্যাতনের দায়ে আবদুল খান নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে গুজব রটিয়ে দেন ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতা তেজিন্দার পাল সিং বাগগা। এই বিজেপি নেতার টুইট পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। অথচ বিবিসিকে পুলিশ জানায়, মণিপুরে আবদুল খান নামের একজনকে আটক করা হলেও তাকে আটকের সঙ্গে ওই দুই নারীকে নির্যাতনের ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই। আবদুলকে আটক করা হয়েছিল অন্য অপরাধে।