বেসরকারি ঋণে ১৯ মাসে সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি

২০২২-২৩ অর্থবছরের শেষ মাস জুনেও বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধিতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি। সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু জুন শেষে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এটি ১৯ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, চলতি বছরের মে শেষে বেসরকারি খাতের ঋণে প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক ১ শতাংশ। আর ২০২২ সালের জুন শেষে ছিল ১৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ। মূলত বিনিয়োগ চাহিদা, ঋণযোগ্য তহবিল কমাসহ বিভিন্ন কারণে এমন হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পদ্ধতিগত কারণে বাজার থেকে টাকা উঠে যাওয়া এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে আমানত প্রবৃদ্ধি কমে গেছে। এর মধ্যে বেনামি ঋণসহ বিভিন্ন কারণে অনেকে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ঘরে রেখেছেন। এতে করে শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটিসহ আটটি ব্যাংক অনেক দিন ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বিধিবদ্ধ নগদ জমা (সিআরআর) রাখতে পারছে না। জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে পারছে না কোনো কোনো ব্যাংক। এসব কারণে ঋণও সেভাবে বাড়ছে না।

এসব বিষয়ে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া মানে বাজারে টাকা ছাড়া, যা মুদ্রাস্ফীতি ও লেনদেন ভারসাম্যের (বিওপি) ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। অর্থায়ন কমে যায় বেসরকারি খাতে। ফলে কমে যেতে পারে নতুন কর্মসংস্থান। জনগণের হাতে অতিরিক্ত অর্থ থাকলে পণ্যের চাহিদা তৈরি হবে, যা দাম বৃদ্ধি করবে। বিপুল পরিমাণ অর্থ বাজারে ছাড়লে তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাবেক এই কর্মকর্তা। অর্থের প্রচলন বেড়ে গেলে পণ্য ও পরিষেবার চাহিদা বেড়ে যায়, যার ফলে আমদানিও বাড়ে।

এদিকে, গত জুন শেষে বেসরকারি খাতে ব্যাংকগুলোর ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৯ কোটি টাকা। আগের বছরের জুন শেষে যা ছিল ১৩ লাখ ৫১ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা। এ হিসাবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা। ঋণস্থিতির হিসাব হয় সুদসহ। ফলে নিট ঋণ যে এত বেড়েছে তা নয়। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমলেও সরকারের ঋণ বাড়ছে দ্রুত। ২০২২-২৩ অর্থবছর ব্যাংক থেকে সরকার প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে। আগের অর্থবছর নিয়েছিল ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা।