সংস্কার কাজের জন্য চট্টগ্রামের কালুরঘাট রেলসেতু বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বিকল্প হিসাবে মঙ্গলবার থেকে চালু করা হয়েছে ফেরি সার্ভিস। তবে, ফেরি দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রথম দিনেই ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে লোকজনকে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল যোগাযোগ চালুর পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কর্ণফুলী নদীর উপর দিয়ে জরাজীর্ণ কালুরঘাট রেল সেতু। বর্তমানে অবস্থায় সেতুর উপর দিয়ে ভারী ইঞ্জিনসহ ট্রেন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সেতুটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এ সংস্কার প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে তিন মাস সময় লাগবে। তাই আগামী ৩১ অক্টোবর সেতু বন্ধ থাকবে। এসময় বিকল্প হিসাবে ফেরি সার্ভিস চালু থাকবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, মঙ্গলবার থেকে সেতুর পাশ দিয়ে কর্ণফুলী নদীর ওপর ফেরি চালু করা হয়েছে। প্রথম দিন একটি ফেরি চললেও পরবর্তীতে দুইটি ফেরি দেয়া হবে।
সওজের নির্ধারিত টোল হার অনুযায়ী কালুরঘাট এলাকায় ফেরি টে্রইলারের জন্য ৫৬৫ টাকা, ভারী ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যান ৪০০ টাকা, মাঝারি ট্রাক ২২৫ টাকা, ছোট ট্রাক ১৭০ টাকা, বড় বাস ২০৫ টাকা, মিনিবাস ১১৫ টাকা, মাইক্রোবাস-পিকআপ ৯০ টাকা, ব্যক্তিগত গাড়ির (প্রাইভেট কার) ৫৫ টাকা, ব্যাটারিচালিত ৩ ও ৪ চাকার গাড়ি ২৫ টাকা, মোটর সাইকেল ১০ টাকা ও রিকশা, ভ্যান, বাইসাইকেল এবং ঠেলাগাড়িকে ৫ টাকা করে টোল দিতে হবে।
বেলা ১২টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, একটি মাত্র ফেরির কারণে নদীর দুই পাড়ের যাতায়াতকারীদের ভোগান্তি চরমে ওঠেছে। উভয় পাশে যানবাহনের বড় ধরনের যানজট লেগে আছে।
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর ওপর দাঁড়িয়ে প্রায় শতবর্ষী কালুরঘাট সেতু। মঙ্গলবার (১ আগস্ট) সংস্কারের জন্য সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধের প্রথমদিনেই মারাত্মক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে জনসাধারণকে। যানবাহন ও যাত্রী পারাপারে দু’টি ফেরি চালুর কথা থাকলেও চলছে একটি।
এদিকে, জোয়ারের পানিতে ডুবে যাওয়া পল্টুন পাড়ি দিয়েই লোকজনকে উঠতে হচ্ছে তীরে। নদীর দুই তীরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকছে গাড়ি। ফলে দুই তীরেই কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে যানজট।
কথা হয় নদীর পশ্চিম পাড়ে ফেরির জন্য অপেক্ষারত বোয়ালখালির আমুচিয়া এলাকার বাসিন্দা হারুনুর রশিদের সঙ্গে। তিনি বলেন, শত বছরের প্রাচীন কালুরঘাট সেতুর বিকল্প রেল সেতুর দাবি দীর্ঘদিনের। সংসদে একাধিকবার বোয়ালখালিবাসীর এই প্রাণের দাবি তুলে ধরেছিলেন এলাকার দুই প্রয়াত সাংসদ মাঈনুদ্দিন খান বাদল ও মোসলেম উদ্দিন আহমেদ। এখন সেতুর বদলে আমাদের ফেরিতে যাতায়াত করতে হচ্ছে। দেশে যেখানে ফেরি সার্ভিস বন্ধ করে নতুন নতুন সেতু চালু হচ্ছে সেখানে আমরা পেছনের দিকে হাঁটছি।
তিনি বলেন, ফেরি পার হতে গিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে মানুষকে। জোয়ারের কারণে পানি বেড়ে যাওয়ায় পল্টুনগুলোর উপর পানি ওঠে গেছে। যে কারণে অনেক কষ্টে ফেরিতে উঠতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আবু জাফর মিঞা দেশ রূপান্তরকে জানান, মঙ্গলবার থেকে সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সংস্কার কাজ দু’একদিনের মধ্যে পুরোদমে শুরু হবে। আশা করি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংস্কার প্রকল্প সমাপ্ত হবে।
প্রসঙ্গত, দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালির মানুষের চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম কালুরঘাট সেতু। সেতু বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির মুখে পড়েছে এই এলাকার লোকজন।