ঢাকায় বিএনপিসহ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মহাসমাবেশ এবং সর্বশেষ রাজধানীর প্রবেশমুখে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হামলাসহ সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকায় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের ব্রিফিং করেছে দলটি। গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে হোটেল লেকশোরে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। বিএনপির আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, ইরানসহ ২৫টি দেশের কূটনীতিকরা অংশ নেন।
ব্রিফিংয়ে অংশ নেওয়া বিএনপি নেতারা দেশ রূপান্তরকে জানান, মহাসমাবেশে জনগণের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে জনস্রোত, ঢাকার প্রবেশমুখে অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাদের যৌথ হামলার বিষয়গুলো কূটনীতিকদের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়। এ ছাড়া পুলিশ ও আওয়ামী লীগের যৌথ হামলার শিকার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য কূটনীতিকদের কাছে তার ওপর হামলার চিত্র তুলে ধরেন। পাশাপাশি তাদের ব্রিফিংয়ের কপি সরবরাহ করা হয়।
ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঢাকায় বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের কাছে জানতে চান সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি। তাই তাদের ব্রিফিং করা হয়েছে বিএনপির পক্ষ থেকে। গত ২৯ জুলাই আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সরকার ও সরকারি দলের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের যৌথ হামলা, মিথ্যা মামলা, গ্রেপ্তারের বিষয়গুলো আমরা বলেছি। বাংলাদেশে যারা গণতন্ত্র বিশ্বাস করে, গণতন্ত্র দেখতে চায় গণতান্ত্রিক অর্ডার দেখতে চায়, মানবাধিকার দেখতে চায় তাদের জানা দরকার।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ যে পথে চলছে, ২০১৪ ও ’১৮ সালের নির্বাচন আমাদের সেটাই স্মরণ করিয়ে দেয়। সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে বিচার বিভাগকে ব্যবহার করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করা, সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। যত ঘটনা সরকার ঘটাবে আমরা আপনাদের কাছে তুলে ধরব, সবাইকে বলব। এ ধরনের আক্রমণ, গ্রেপ্তার, যাদের আহত করা হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা, অনেকে বিদেশে আছে, অনেকে হজে আছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা উদ্দেশ্যটা তো বোঝাই যাচ্ছে। তাদের টার্গেট হচ্ছে আবার ভয়ভীতি দেখিয়ে একটা নির্বাচনী কৌশলে ভোট চুরি করে আবার ক্ষমতা দখল করা।’
এক প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু বলেন, ‘দেশে ও দেশের বাইরে এদের (এই সরকার) অধীনে যে নির্বাচন হবে না... এটা পরিষ্কার হয়ে গেছে। সেজন্য তো দেশের সবার পক্ষ থেকে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কথাটা এসেছে।’
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জার্মানি, জাপান, চীন, রাশিয়াসহ ২৫টি দেশে কূটনীতিকরা অংশ নেন। বিএনপি নেতাদের মধ্যে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটির সদস্য এনামুল হক চৌধুরী, শামা ওবায়েদ, আসাদুজ্জামান আসাদ, নওশাদ জমির, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, তাবিথ আউয়াল, ইশরাক হোসেন, নজরুল ইসলাম আজাদ, ফাহিমা নাসরিন মুন্নী, রুমিন ফারহানা, ফারজানা শারমিন পুতুল প্রমুখ। বৈঠকটি রুদ্ধদ্বার হওয়ায় হোটেলে প্রবেশাধিকারে কড়াকড়ি ছিল। গণমাধ্যমের সাংবাদিকরাও হোটেলের বাইরে অবস্থান করেন।