সরকার টিকে আছে বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে

বর্তমান সরকার দেশের মানুষ, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের শত্রু বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে, এই সরকার জোর করে ক্ষমতায় টিকে আছে। আওয়ামী লীগকে সরানোর সংকট শুধু বিএনপির নয়, গোটা জাতির সংকট। দেশের জনগণ এই সংকটের ভুক্তভোগী। তাই ভারত, যুক্তরাষ্ট্র কি বলল, সেটা বিষয় নয়; বরং দেশের জনগণ কী বলে এবং তারা কী চায়, সেটাই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।’

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানকে সাজা দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর উত্তর ও  দক্ষিণ এবং ঢাকা জেলা বিএনপির যৌথ উদ্যোগে এই সমাবেশ হয়। একই দিন সারা দেশে একই কর্মসূচি পালন করে দলটি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তারেক রহমান ও তার স্ত্রীকে দুর্নীতি মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। পতন যখন অবশ্যম্ভাবী, তখন এসব ক্যারিকেচার করে লাভ নেই। সরকারের সময় শেষ। দিশেহারা হয়ে অসংলগ্ন কথা ও কাজ করছে সরকার। জোবাইদা রহমান, যিনি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন, তিনি একজন বিশিষ্ট চিকিৎসক। তার পারিবারিক সম্পত্তি কয়েক হাজার কোটি টাকার, তাকে কয়েক লাখ টাকার এফডিআরের জন্য সাজা দেওয়া হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সাজা দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি মামলায় তো তোমাদের নেতাকে পাকিস্তান আমলে জেলে যেতে হয়েছিল।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের পর ওবায়দুল কাদেরকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছেন কোনো চাপে আছেন কি না তিনি বললেন কোনো চাপে নেই, তবে বিবেকের চাপে আছি। আসলে সরকার চোখে অন্ধকার দেখছে। তাই তারা একেক সময় একেক কথা বলছে।’

ওয়ান-ইলেভেনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আজকের দুর্নীতির অভিযোগে তারেক রহমানকে সাজা দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে সরকারপ্রধানের বিরুদ্ধেও ১৫টি মামলা হয়েছিল। বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে মামলাগুলো নাই করে ফেলেছেন। শুধু তা-ই নয়, যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে সরকার আজ তাদের পদোন্নতি দিচ্ছে। আজ সমগ্র দেশ দুর্নীতি মাকড়সার জালের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।’

সাজা ঘোষণা করা বিচারপতিকে উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে বিনা অপরাধে আমাদের নেতাকর্মীদের জেলে নেওয়া হচ্ছে, ফাঁসির আদেশ দেওয়া হচ্ছে। যারা অবৈধ রায় দিচ্ছেন, সেই সব বিচারপতির আল্লাহর কাছে একদিন জবাব দিতে হবে। এই ন্যায়বিচারের জন্যই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ। অতীতের কথা সব সময় স্মরণ রাখবেন। সেই সেøাগানের কথা ভুলে যাবেন না বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা আজ জেগেছে সেই জনতা।’

জুমার নামাজের পর সমাবেশ থাকলেও ঝড়-বৃষ্টির কারণে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে এই সমাবেশ শুরু হয়। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নয়াপল্টনে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর প্রথম মিছিলটি আসে ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির। এই মিছিলে নেতৃত্ব দেন নিপুণ রায় চৌধুরী। এ ছাড়া দোহার নবাবগঞ্জ উপজেলার একটি মিছিল আসে। এই মিছিলের নেতৃত্ব দেন জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক। সাভার ও আশুলিয়া থেকেও মিছিল আসে, যার নেতৃত্ব দেন ডা. দেওয়ান সালাউদ্দিন বাবু। ধামরাই থেকে আসা মিছিলের নেতৃত্ব দেন তমিজ উদ্দিন। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড-থানা থেকে মিছিল আসতে দেখা যায়।

গত বুধবার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পলাতক আসামি তারেক রহমানের ৯ ও তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের ৩ বছরের কারাদ- দেয় আদালত।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান। পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক ও দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব তানভির আহমেদ রবিন।

সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লা বুলু, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবি রিজভী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বকুল, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ প্রমুখ।