কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্য ৩৫ হাজার কোটি

বাংলাদেশ ব্যাংক আজ চলতি বছরের জন্য কৃষিনীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য কৃষি ও পল্লীঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরে ছিল ৩০ হাজার ৮১১ কোটি। যদিও ব্যাংকগুলো লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দুই হাজার কোটি টাকা বেশি ঋণ বিতরণ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল ভবনের চতুর্থ তলায় জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে সকাল ১১টায় কৃষিনীতি ঘোষণাকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ডেপুটি গভর্নর একেএম সাজেদুর রহমান।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জানা গেছে, বিদায়ী অর্থবছরের তুলনায় এই বছর ব্যাংকিং খাতে কৃষি ও পল্লীঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ছে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। কম সুদে কৃষকদের হাতে ঋণ পৌঁছাতে এবার ক্ষুদ্র ঋণদাতা সংস্থার (এমএফআই) ওপর বেসরকারি ব্যাংকের নির্ভরশীলতা আরও কমিয়ে আনা হচ্ছে। আর এ জন্য ব্যাংকের নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্তত ৫০ শতাংশ কৃষিঋণ বিতরণ বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা এতদিন ছিল ৩০ শতাংশ। এই ঋণের অন্তত ৬০ শতাংশ শস্য ও ফসল খাতে, ১৩ শতাংশ মৎস্য খাতে এবং ১৫ শতাংশ প্রাণিসম্পদ খাতে বিতরণ করা হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষণ থেকে জানা গেছে, অনুমোদনপ্রাপ্ত এমএফআই প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষুদ্রঋণের সর্বোচ্চ সুদহার নির্ধারণ করা আছে ২৪ শতাংশ। ফলে ব্যাংকের এনজিওর মাধ্যমে কৃষিঋণ বিতরণের ফলে কৃষকদেরও ২৪ শতাংশ সুদ গুনতে হয়। যদিও এই সুদের হার ৩০ শতাংশ পর্যন্ত উঠছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এনজিওর মাধ্যমে ঋণ দিলে সুদ বেশি হয়। বিশেষ করে ২৪ থেকে ৩০ শতাংশ সুদ কৃষকের জন্য অনেক বড় বোঝা। এত বেশি সুদ নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তারপরও কৃষকরা এনজিও থেকে ঋণ নিতে বেশি আগ্রহী। কারণ এখানে ব্যাংকের মতো বিভিন্ন ফরমালিটিস (বাধ্যবাধকতা) থাকে না। এনজিওগুলো কৃষকের দোরগোড়ায় ঋণটি পৌঁছে দেয়। কৃষিঋণ বিতরণ ঝামেলামুক্ত করতে হবে।

উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরের স্মার্ট সুদহার পদ্ধতিতে জুলাই থেকে কৃষিঋণের সর্বোচ্চ সুদহার হবে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট ৩২ হাজার ৮২৯ কোটি টাকার কৃষিঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো।