পাকিস্তানি রাজনীতিকদের ঘড়ির ‘নেশা’

বিলাসবহুল হাতঘড়ির ব্রান্ড গ্রাফের একটি হীরক খচিত ঘড়ি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে উপহার দিয়েছিলেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সেই হাতঘড়িই কাল হলো ইমরান খানের। ঘড়িটি বিধিবহির্ভূতভাবে বিক্রির দায়ে কলঙ্কিত হলেন পাকিস্তানকে ক্রিকেট বিশ্বকাপ জেতানো তারকা ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিতে নামা ইমরান। গ্রাফের এই ঘড়ির মূল্য ২০০ কোটি পাকিস্তানি রুপি। বলা হয়ে থাকে, সৌদি যুবরাজের কাছ থেকে পাওয়া উপহারের এই ঘড়ি ইমরানের স্ত্রী বুশরা বিবির বান্ধবী ফারাহ গোগি ও শেহজাদ আকবরের মাধ্যমে দুবাইয়ের ব্যবসায়ী উমর ফারুক জাহুরের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। নরওয়েজীয় বংশোদ্ভূত পাকিস্তানি মিলিয়নিয়ার জহুর দাবি করেন, তিনি ফারাহ গোগির কাছ থেকে ৭৫ লাখ আমিরাতি দিরহাম দিয়ে বিরল ওই ঘড়ি ও তোশাখানার আরও তিনটি উপহার কিনেছিলেন। কিন্তু রাষ্ট্রীয় তোশাখানার ঘড়ি এই একটিই নয়, আবার ঘড়ি নিয়ে লজ্জাজনক কাণ্ডও এটিই প্রথম নয় পাকিস্তানে। দেশটির সংবাদমাধ্যম ডনের এক নিবন্ধে তুলে ধরা হয়েছে পাকিস্তানের রাজনীতিকদের ঘড়ির নেশার কথা, বলা ভালো উপহারের ঘড়ির প্রতি বাড়তি আকর্ষণের কথা।

পলিটিক-টক : ‘দ্য ইনফেমাস ওয়াচেস অব তোশাখানা’ নামের ওই নিবন্ধে ডন জানায়, তোশাখানার প্রকাশিত সম্পদের তালিকায় ২০০২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বহুমূল্য ঘড়ির সংখ্যা ১২৬২টি। এগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই একেবারে নামমাত্র মূল্যে নিজের করে নিয়েছেন অনেক সরকারপ্রধান। অথচ ইমরানকে তার বিরোধী রাজনীতিকরা টেলিভিশনে বলেন ‘ঘড়ি চোর’!

ডন বলছে, ইমরান খানের পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সরকারগুলোর প্রধানরাও তোশাখানা থেকে একেবারে নামমাত্র মূল্যে বিদেশি রাষ্ট্র থেকে প্রাপ্ত অত্যন্ত মূল্যবান ঘড়ি বাগিয়ে নিয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা ইউসুফ রাজা গিলানি ও তার স্বজনরা। তোশাখানার  ৬০টি ঘড়ি, যেগুলোর মূল্য ১ কোটি ২২ লাখ পাকিস্তানি রুপিÑ সেগুলো তারা নিজের করে নিয়েছেন মাত্র ২০ লাখ রুপি দিয়ে। পানির দামে ঘড়ির মালিক হওয়ার তালিকায় আছেন একই দল থেকে ২০০৮-১৩ পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট থাকা আসিফ আলি জারদারি। যিনি তোশাখানার ৮টি ঘড়ি, যেগুলোর দাম ৪৪ লাখ রুপি সেগুলো নিজের করে নিয়েছিলেন মাত্র ৭ লাখ টাকায়!