ব্যর্থ ব্যাংকগুলোকে দিতে হবে ২০৭০ কোটি টাকা

কৃষিঋণ বিতরণে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে না পারায় আট ব্যাংককে দুই হাজার ৭০ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে এর বিপরীতে ২ শতাংশ মুনাফা পাবে ব্যাংকগুলো, যার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ১৮ মাস। যেসব ব্যাংক কৃষিঋণ বিতরণে সফল হয়েছে তাদের মাধ্যমে এই টাকাগুলো পুনরায় কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত কৃষিঋণ নীতিমালা ঘোষণা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ডেপুটি গভর্নর এ কে এম সাজেদুর রহমান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী পরিচালক নুরুল আমিন, পরিচালক সারোয়ার হোসেন, সাঈদা খানমসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের অন্য কর্মকর্তারা।

২০২২-২৩ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি কৃষিঋণ বিতরণ হলেও ৮টি ব্যাংক ব্যর্থ হয়েছে। এসব ব্যাংকের জন্য কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে অর্থবছর শেষে এসব ব্যাংক টাকা বিতরণ করেছে। এতে করে এসব ব্যাংকের ২ হাজার ৬৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকার কৃষিঋণ অব্যবহৃত পড়ে আছে, যা বাংলাদেশ এগ্রিকালচার কমন ফান্ডে (বিএসিএফ) জমা দিতে হবে। অব্যবহৃত কৃষি ঋণের ওই অর্থ সফল ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। এক্ষেত্রে ব্যর্থ ব্যাংকগুলো কৃষিঋণের বর্তমান সুদহার ৯ দশমিক ১ শতাংশের পরিবর্তে ২ শতাংশ পাবে। আর এ সুদের টাকা পাবে দেড় বছর পর।

কৃষি উৎপাদন বাড়াতে চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কৃষকদের জন্য ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেবে ব‌লে বরাদ্দ রেখেছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। এই লক্ষ্যমাত্রা গত অর্থবছরের চেয়ে ১৩ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছর কৃষিঋণের লক্ষ্য ছিল ৩০ হাজার ৮১১ কোটি টাকা। নতুন কৃষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ বিতরণ কর‌তে হ‌বে। পল্লী অঞ্চলে আয়-উৎসারী কর্মকান্ডে ঋণের সর্বোচ্চ সীমা হ‌বে ৫ লাখ টাকা।

এবার কৃষি ও পল্লীঋণের চাহিদা বিবেচনায় চলতি অর্থবছরে মোট লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো ১২ হাজার ৩০ কোটি টাকা, বেসরকারি ২১ হাজার ৯২৩ কোটি টাকা এবং বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য এক হাজার ৪৭ কো‌টি টাকা পল্লীঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সাজেদুর রহমান বলেন, কৃষি আমাদের প্রাণশক্তি। বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যে যখন সব খাত নিম্নমুখী ছিল তখন আমাদের আশ্রয় দিয়েছে এই কৃষি। এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশের মোট উৎপাদনের বেশিরভাগই কৃষিনির্ভর। তাই প্রতি বছরই কৃষিকাজ ও উৎপাদন বাড়ানোর জন্য এই খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। আগামী বছর থেকে পশুপাখি লালন-পালনের জন্য নিজস্ব জমির পাশাপাশি লিজ নেওয়া জমির বিপরীতেও কৃষকদের ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক। এমনকি ছাদ কৃষিতেও বিনিয়োগ করবে ব্যাংক। যারা এই ঋণ বিতরণে ব্যর্থ হবে তারা নির্ধারিত অর্থ বাংলাদেশ এগ্রিকালচার কমন ফান্ডে (বিএসিএফ) জমা দেবে। এই অর্থগুলো শতভাগ সফল ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে আবারও কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। আশা করি আগামী বছর থেকে সব ব্যাংকই শতভাগ কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে।

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফজাল করিম বলেন, কৃষি খাতকে আরও উন্নত করতে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। কারণ এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিতে গেলে কৃষকদের ২৪ শতাংশের বেশি মুনাফা গুনতে হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হন প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনা করে ব্যাংকগু‌লোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ করতে হবে। বা‌ণি‌জ্যিক ব্যাংকগু‌লোর লক্ষ্যমাত্রার বাইরে বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেড এবং বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) তাদের নিজস্ব অর্থায়নে ২৬ কোটি ও এক হাজার ৪২৩ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লীঋণ বিতরণ করবে।