অভ্যুত্থানকারীরা ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহামেদ বাজুমকে আবার ক্ষমতায় ফেরানোর বেঁধে দেওয়া সময় উপেক্ষা করায় নাইজার এখন যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে। যেকোনো সময় পশ্চিমাপন্থি আফ্রিকান দেশগুলোর সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার শঙ্কায় দেশটিতে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। জান্তা শুরু করেছে যুদ্ধ প্রস্তুতি, এর আগে জনসমর্থন পেতে রাজধানী নিয়ামের স্টেডিয়ামে হাজার হাজার মানুষের সমাবেশ ঘটিয়ে সেখানে উপস্থিত হন অভ্যুত্থান ঘটানো জেনারেলরা। এরপর গত রবিবার রাত থেকে নাইজারের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয় জান্তা।
নাইজারে ক্ষমতা দখলকারী নেতারা নিজেদের ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর দ্য সেফগার্ড অব দ্য হোমল্যান্ড (সিএনএসপি) নামে পরিচয় দিচ্ছেন। সিএনএসপির মুখপাত্র আমাদো আবদারমানে বলেছেন, ইকোওয়াসের (পশ্চিম আফ্রিকার অর্থনৈতিক জোট) সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির বিষয়টি বিবেচনায় নাইজারের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, নাইজারে সামরিক হস্তক্ষেপের প্রস্তুতি হিসেবে এরই মধ্যে দুটি মধ্য আফ্রিকান দেশে সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
আবদারমানে বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রস্তুতির মাধ্যমে নাইজারে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি স্পষ্ট। এ কারণে রবিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশের আকাশসীমায় সব ধরনের উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।’ প্রতিপক্ষকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জান্তা মুখপাত্র বলেন, ‘নাইজারের সব প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনী আমাদের ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষা করতে প্রস্তুত।’
আঞ্চলিক প্রতিবেশী মালি এবং বুরকিনা ফাসোর ক্ষমতাসীন জান্তারা প্রয়োজনে নাইজারের প্রতিরক্ষায় এগিয়ে আসবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। গতকাল সোমবার মালির সেনাবাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে বলেছে, উভয় দেশই নিয়ামিতে প্রতিনিধিদল পাঠাচ্ছে।
এ ছাড়া নিজেদের প্রস্তুতির পাশাপাশি ক্ষমতায় টিকে থাকতে রুশ ভাড়াটে বাহিনী ওয়াগনার গ্রুপেরও সাহায্য চেয়েছে নাইজারের জান্তা। সাম্প্রতিক সামরিক অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা জেনারেল সলিফু মোডি সম্প্রতি প্রতিবেশী দেশ মালিতে গিয়ে ওয়াগনারের একজন প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই অনুরোধ জানান।
গত বৃহস্পতিবার জান্তাপ্রধান জেনারেল আবদুরাহমান চিয়ানির সঙ্গে দেখা করার জন্য একটি মধ্যস্থতাকারী দলকে নাইজারে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তাদের দেশটিতে প্রবেশ করতে দেয়নি জান্তা সরকার। এরপরই গত শুক্রবার ইকোওয়াস সদস্যদের প্রতিরক্ষাপ্রধানরা নাইজারে সামরিক হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেন এবং সময়সীমা বেঁধে দেন, যা গত রবিবার শেষ হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিম আফ্রিকার এ অঞ্চলে সামরিক অভ্যুত্থান অনেকটা সাধারণ ঘটনা হয়ে উঠেছে। নাইজারের আগে মালি, বুরকিনা ফাসোর সামরিক নেতারা পশ্চিমা দেশগুলো, বিশেষ করে সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্সকে প্রত্যাখ্যান করে অভ্যুত্থান ঘটান। এরপর নাইজারে গত ২৬ জুলাইয়ের অভ্যুত্থান ছিল পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকা অঞ্চলে গত তিন বছরের মধ্যে সপ্তম সামরিক অভ্যুত্থানের ঘটনা।