ডেঙ্গুতে নারী চিকিৎসকসহ ১৩ মৃত্যু

ডেঙ্গুতে রাজধানীতে এক তরুণ নারী চিকিৎসক মারা গেছেন। ডা. আলমিনা দেওয়ান মিশু নামে এই চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত সোমবার রাত সোয়া ১টার দিকে এই চিকিৎসক মারা যান। তিনি ৩৯ বিসিএসের কর্মকর্তা।

ডা. মিশু ঢাকার মাতুয়াইলে বাংলাদেশ শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের গাইনি বিভাগে আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ৪৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী।

এ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশে ডেঙ্গুতে ১৩ জন মারা গেল। তাদের মধ্যে ১১ জন ঢাকায় ও দুজন ঢাকার বাইরে মারা গেছে। এ নিয়ে এ বছর ৩৪০ জনের মৃত্যু হলো। মৃত্যুর ২৬৯ জন ঢাকায় ও ৭১ জন ঢাকার বাইরের। এ বছর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মারা গেছে নারী, ১৯৪ জন, যা মৃত্যুর ৫৭ শতাংশ। বাকি ১৪৬ জন পুরুষ মারা গেছে। বয়সভেদে সবচেয়ে বেশি ১০ শতাংশ মারা গেছে ২১-২৫ বছর বয়সী মানুষ।

শুরুতে বাসাতেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন ডা. মিশু : ডা. মিশুর মৃত্যুর ব্যাপারে বাংলাদেশ শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ মান্নান জানান, ডা. মিশু এই প্রতিষ্ঠানের এমএস কোর্সের শিক্ষার্থী ছিলেন। আগামী বছরের জানুয়ারিতে তার চূড়ান্ত পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। গত জুনের পর থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) পড়ালেখা করছিলেন। গত ২৪ জুলাই তার জ্বর আসে। ডেঙ্গু ধরা পড়লে প্রথমে বাসাতেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। অবস্থা খারাপ হলে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিন-চার দিন আগে এভারকেয়ার থেকে তার পরিবারকে জানানো হয় তিনি অলরেডি ব্রেইন ডেড। পরিবার চাইছিলেন চিকিৎসা চালিয়ে যেতে। সেজন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে আনা হয়। রাতে সেখানেই মারা যান।

ডা. মিশুর বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন এলাকায়। তার ছোট একটি মেয়ে রয়েছে। মিশুর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোকবার্তায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ডা. দেওয়ান আলমিনা মিশুর আত্মার মাগফিরাত কামনাসহ তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।

নতুন ভর্তি রোগীর ৬১% ঢাকার বাইরে : গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ২ হাজার ৭৪২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। নতুন রোগীদের মধ্যে ১ হাজার ৬৭৭ জন, অর্থাৎ ৬১ শতাংশ ঢাকার বাইরের। ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১৬১ জন। সব মিলিয়ে এ বছর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার ২২৫ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৯ হাজার ৪৬৩ জন রোগী ভর্তি আছে। তাদের মধ্যে ঢাকায় ৪ হাজার ৪৮২ জন এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলায় ৪ হাজার ৯৮১ জন।