কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ফটিকছড়ির দুইটি পৌরসভাসহ ১৮ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। যার ফলে এই এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে চলা হালদা, ধুরুং, সর্তা, গজারিয়াসহ বিভিন্ন নদী ও খালের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ সংস্কার না হওয়ায় শঙ্কায় দিন পার করছেন এলাকাবাসী।
এদিকে হালদা নদীর পানি প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাওয়ায় নাজিরহাটের ঝুঁকিপূর্ণ হালদা সেতু নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বাসিন্দারা। তীব্র স্রোতে নড়বড়ে সেতুটি যেকোন মুহূর্তে বিধ্বস্ত হয়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা স্থানীয়দের।
বন্যার পানিতে এলাকাগুলোর কয়েকশ’ একর রোপা আমন, বীজতলা ও বর্ষাকালীন সবজির ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। এ ছাড়াও উপজেলার ১৫ থেকে ২০টি মাছের ঘের ও অধিকাংশ পুকুর ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বন্যায় মুরগি ও গরুর খামারগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
অন্যদিকে উপজেলার নানুপুর, লেলাং, ধর্মপুর, আব্দুল্লাহপুর, সুয়াবিল, হারুয়ালছড়ি, সমিতিরহাটসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে বন্যার পানি দেখা দিয়েছে। উপজেলার গ্রামীণ সড়ক ছাড়াও গহিরা-হেঁয়াকো সড়কের বেশ কয়েকটি স্থান বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। এ ছাড়া এসব এলাকার অধিকাংশ বিলগুলো পানিতে ডুবেছে। এতে করে রোপা আমনের ক্ষতি হয়েছে।
বুধবার সকালে উপজেলার রোসাংগিরী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। গৃহবন্দী হয়ে পড়েছেন তারা। এ ছাড়াও উপজেলার বক্তপুর ইউনিয়নের কয়েকটি অভ্যন্তরীণ সড়ক পানিতে ডুবে গিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
গতকাল মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে বিশাল আকৃতির শীল কড়ই গাছ উপড়ে পড়ে মাইজভান্ডার-নাজিরহাট সড়কে। ফলে ফটিকছড়ির নানুপুর-নাজিরহাট সড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে ফায়ার সার্ভিস এসে ২ ঘণ্টার চেষ্টায় সড়ক থেকে গাছটি কয়েক টুকরো করে অপসারণ করে। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
রোসাংগিরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে আমার ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ড প্লাবিত হয়েছে। গত দুই থেকে তিনদিনের অতিবৃষ্টিতে মানুষের ঘর-বাড়িসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করেছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় দুর্গত পরিবারগুলোকে চাল, ডাল, আলুসহ শুকনা খাবার প্রদান করেছি৷
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাব্বির রহমান সানি বলেন, হঠাৎ ভারী বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছে নদী ভাঙন, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি, মানুষের ক্ষয়-ক্ষতির তথ্য চাওয়া হয়েছে। সার্বিক বিষয়ে খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে।