অল্প সময়ে বেশি কাজের কৌশল

আমরা প্রায়ই কাজ করার সময় পরিশ্রম অনুযায়ী ফল পাই না। অনেক সময় কাজের ফলাফল থেকে পরিশ্রমের পরিমাণ বেশি হয়ে যায়। অর্থাৎ কাজটি আমাদের জন্য ফলপ্রসূ হলো না। এর ফলে লক্ষ্য অর্জনে আমাদের সময় লেগে যায় অনেক। কিন্তু কিছু কৌশল অবলম্বন করলেই অল্প সময়ে বেশি কাজ করা সম্ভব। লিখেছেন নূরে আলম সিদ্দিকী শান্ত

সঠিক সময় নির্বাচন : যে কাজ তোমার যখন করতে বেশি ভালো লাগে সেই কাজ তখন করবে। কারণ কাজ করে ভালো লাগার ওপর মনোযোগ নির্ভর করে। কাজে যত বেশি মনোযোগ থাকবে, কাজ তত বেশি ফলদায়ক হবে। ধরো, তোমার সকালবেলা পড়লে পড়া বেশি মনে থাকছে। সকালেই পড়ো। সন্ধ্যায় হোমওয়ার্ক করতে ভালো লাগছে, করে ফেলো। কখন কোন কাজটি করতে তোমার বেশি ভালো লাগে সেই সময়টি খুঁজে বের করো। বিকেলবেলা খেলতে ইচ্ছা করছে কিন্তু জোর করে পড়ার টেবিলে বসে আছো। তখন পড়া কিন্তু হবে না। বিশ্রাম নাও অথবা খেলাধুলা করে আবার সন্ধ্যায় পড়তে বসো।

গুরুত্বপূর্ণ কাজ আগে : যে কাজগুলো তোমার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেই কাজগুলো আগে শেষ করবে। ধরো আগামীকাল ক্লাসের পড়া শেখা বাকি আছে। তুমি সেই কাজ করা বাদ দিয়ে এক সপ্তাহ পরের সায়েন্স ফেয়ারের প্রজেক্ট নিয়ে বসলে তাহলে কিন্তু হবে না। এতে আগামীকাল ক্লাসে স্যারের বকা খাবে। ক্লাসের বন্ধুরা হাসাহাসি করবে। তোমার মন খারাপ হবে। শিক্ষকরাও তোমাকে ভালো ছাত্র বলে মনে করবেন না। সায়েন্স ফেয়ার বা অন্য এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজের প্রতিযোগী হিসেবে তোমাকে নির্বাচনের আগে স্যাররা দ্বিধায় ভুগবেন। যে ক্লাসের পড়াটিই ভালো করে শিখতে পারে না সে কি এগুলো পারবে! তাহলে কী হলো? না তুমি ক্লাসে ভালো করতে পারলে না তুমি সায়েন্স ফেয়ারে অংশ নিতে পারলে। তাই যে কাজ আগে করা প্রয়োজন তা আগে শেষ করবে।

দিনের শুরুটা হোক সুন্দর : সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই নিজের বিছানাটা গুছিয়ে নেবে। নিজ ধর্ম অনুযায়ী সালাত আদায় বা প্রার্থনা করবে। ভোরের প্রকৃতি দেখবে। সুযোগ হলে বাইরের নির্মল হাওয়ায় হেঁটে আসতে পারো। তারপর টেবিলে বসে সারা দিনের কাজের একটি তালিকা মাথায় গেঁথে নেবে। শান্ত, স্নিগ্ধ, স্থির মস্তিষ্কে পরিকল্পনা করবে দিনের কাজগুলোর। দেখবে সারা দিনটা কর্মময় এবং সুন্দর যাবে।

একসঙ্গে একের বেশি কাজ নয় : কাজের গুণগত মান বৃদ্ধিতে একসঙ্গে একের বেশি কাজ ধরবে না। পড়ার সময় খেলা আর খেলার সময় পড়ার চিন্তা করলে খেলা বা পড়া কোনোটাই হবে না। যখন যে কাজ করবে পূর্ণ মনোযোগের সঙ্গে করবে। এক কাজ করতে গিয়ে তা শেষ না করে আবার অন্য কোনো কাজ শুরু করলে আগের কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। বড় কোনো কাজ একবারে শেষ করতে না পারলে বিরতি নিয়ে কাজটি শেষ করবে।

নিজেকে পুরস্কৃত করো : কাজ শেষ হলে নিজেকে পুরস্কৃত করো। এই পুরস্কার হতে পারে যেকোনো কিছু। এতে কাজে আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে, আনন্দের সঙ্গে কাজ করা সহজ হবে। কম সময়ে নিজেকে দিয়ে বেশি কাজ করিয়ে নিতে পারবে।