ঢাকার কেরানীগঞ্জে আবাসিক এলাকায় একটি কারখানার রাসায়নিকের গুদামে আগুন লেগে একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। গতকাল মঙ্গলবার ভোরের দিকে উপজেলার গদারবাগ এলাকায় এ আগুনের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এক শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানা-পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন জানান, রাত সাড়ে ৩টায় কালিন্দী ইউনিয়নের গদারবাগ এলাকায় স্বাদ গ্লাস অ্যান্ড পলিমার কারখানায় এই অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছেন জেসমিন আক্তার (৩০) জেসমিনের মেয়ে ইশা (১৬), সোহাগ (২৫), সোহাগের স্ত্রী মিনা (২২) এবং সোহাগের দুই বছরের মেয়ে তাইয়েবা। তার সবাই এক পরিবারের সদস্য।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্বাদ গ্লাস অ্যান্ড পলিমার নামের কেমিক্যাল কারখানাটির মালিকের নাম হাজি আবুল হাসনাত টুটুল। এখানে পাশাপাশি দুটি কেমিক্যালের গোডাউন ছিল। গোডাউন দুটির মাঝখানে তিন রুমের একটি বাসায় থাকতেন গোডাউন দুটির কেয়ারটেকার মো. হানিফ। মূলত হানিফ দুটি গোডাউনের দেখভাল করতেন। তার বড় ছেলে মিলন (জেসমিন আক্তারের স্বামী) প্রবাসী এবং ছোট ছেলে সোহাগ একই মালিকের আরেকটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। তিন রুমের বাসায় কেয়ারটেকার হানিফ ও তার স্ত্রী এক রুমে থাকতেন। অন্য একটি রুমে থাকতেন হানিফের ছোট ছেলে সোহাগ, সোহাগের স্ত্রী মিনা ও তাদের দুই সন্তান। অন্য আরেকটি রুমে মেয়েকে নিয়ে থাকতেন জেসমিন। অগ্নিকা-ের পর হানিফ ও তার স্ত্রী এবং সোহাগ তার বড় মেয়েকে নিয়ে বের হতে পারলেও বাকিরা পুড়ে মারা যান। ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা লাশগুলো উদ্ধার করেন। সোহাগ, তার মেয়েসহ আরও কয়েকজনকে ভর্তি করা হয় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। গতকাল দুপুরে সেখানে মারা যান সোহাগ। সোহাগের বড় মেয়ে রোজার (৫) অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
মামুন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, অগ্নিকান্ডের পরপরই এলাকার কয়েকজন মিলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে কেমিক্যালের আগুন হওয়ায় তারা কাছাকাছি যেতে পারেননি। ফায়ার সার্ভিস আসে প্রায় এক ঘণ্টা পর।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী এজিএম (সদর দপ্তর) মো. সামসুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে প্রথমে কেরানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস এবং এরপর সদরঘাট, হেডকোয়ার্টারসহ ছয়টি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ভোর ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
কেরানীগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের ওয়ারিং অফিসার মো. হানিফ জানান, তাদের ধারণা, কোনো রাসায়নিকের পাত্র বিস্ফোরিত হয়ে ভয়াবহ এ ঘটনা ঘটে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় ওসি মামুনুর রশিদ, কেমিক্যাল গোডাউনের পাশের একটি বাসায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে একই পরিবারের পাঁচজন মারা যান।
গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফয়সল বিন করিম ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান। জেলা প্রশাসক পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করেন এবং নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার ও আহতদের ১৫ হাজার টাকা অনুদান দেন।