প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেছেন, ‘এ জাতিকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্যই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। হিসাব-নিকাশ করেই ৩ নভেম্বর হত্যাকা- ঘটানো হয়, যাতে জাতি দিন দিন ধ্বংসের দিকে যায়।’ তিনি বলেন, ‘সে ইতিহাস থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। তারপর আমাদের এগোতে হবে। অন্যথায় বারবার আমরা বিপদের সম্মুখ হতে থাকব।’
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সুপ্রিম কোর্টের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন আপিল বিভাগের বিচারপতি বোরহান উদ্দিন, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকী ও হাইকোর্টের বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদার।
আলোচনা সভা শেষে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধান বিচারপতি। সকালে জাতির পিতার স্মরণে সুপ্রিম কোর্টে নির্মিত স্মৃতি চিরঞ্জীবে বঙ্গবন্ধুর উদ্দেশে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তিনি।
আলোচনা সভায় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের গুণাবলির মধ্যে একটি ছিল সততা। কত সাধারণ জীবনযাপন করতেন তিনি ধানম-ির বাড়িতে গেলে বোঝা যায়। দেশকে স্বাধীন করতে তিনি ছিলেন দৃঢ়সংকল্প। জনগণের সঙ্গে তার সংযোগ ছিল। মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল নিবিড়। জাতির প্রতি তার আস্থাই তাকে নেতা বানিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘যদি আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, তাহলে একে অন্যের প্রতি সহনশীল হতেই হবে। আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করব আর সহনশীল হব না, এটাকে গণতন্ত্রের চর্চা বলা যাবে না।’
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা যদি একাত্তরকে মেনে নিই, সংবিধান মেনে নিই, গণতন্ত্রকে মেনে নিই, তারপর যদি রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি শুরু করা যায়, গণতন্ত্রকে যদি আমরা ধারণ করি, তাহলে আমাদের ভেতর যে দূরত্ব আছে সেটা কমে আসবে।
যে উদ্দেশ্য নিয়ে ১৯৭১ সালে ৩০ লাখ লোক রক্ত দিয়েছিল, যে কারণে বঙ্গবন্ধু শহীদ হয়েছেন, আমার মনে হয় সে লক্ষ্য আমরা পূরণ করতে পারব।’