কক্সবাজারে ৬ মামলায় জামায়াতের ১২ হাজার নেতা-কর্মী আসামি

যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর গায়েবানা জানাজা ঘিরে কক্সবাজার সদর, চকরিয়া-পেকুয়ায় পুলিশের সাথে জামায়াতের পৃথক পৃথক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে চকরিয়ায় ১ যুবক নিহত ও পুলিশসহ অর্ধশতাধিক লোকজন আহত হয়।

এসব ঘটনায় আজ বুধবার রাতে কক্সবাজার, চকরিয়া ও পেকুয়া থানায় ৩ টি আলাদা আইনের ৬ টি মামলায় ৪৬৮ জনের নাম উল্লেখ করে প্রায় জামায়াতের ১২ হাজার নেতা-কর্মীকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

এরমধ্যে কক্সবাজার সদর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে ১টি, চকরিয়া থানায় হত্যা মামলা, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও পুলিশ এসল্টের আইনে পৃথকভাবে ৩ টি মামলা লিপিবদ্ধ হয়েছে। এ ছাড়া পেকুয়া থানায় বিশেষ ক্ষমতা ও পুলিশ এসল্ট আইনে পৃথক দুটি মামলা লিপিবদ্ধ হয়েছে।

বুধবার রাতে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. মাহাফুজুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। যদিও তিনি আসামিদের নাম পরিচয় জানাতে রাজি হননি।

তবে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে , মঙ্গলবার বিকেলে কক্সবাজার সরকারি কলেজের সামনের পুলিশের সাথে জামায়াত সমর্থকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। জানাজা শেষে ঘরে ফিরে যেতে বললে এই ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের ওপর হামলা, ভাঙচুর চালানো হয়। এ ঘটনার কক্সবাজার সদর থানায় এস আই শাহ নেওয়াজ বাদী হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে ২২ শত জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।

চকরিয়া থানা পুলিশের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, সাঈদীর জানাজা পড়ে ফেরার পথে চকরিয়ার চিরিংগা বাজারে লামার চিরিঙ্গা এলাকায় পুলিশের ওপর হামলা করে জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা। ওই হামলায় ওসি, ইউএনও, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, এসি-ল্যান্ডসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সহিংসতার এক পর্যায়ে দুর্বৃত্তদের করা গুলিতে নিহত হন এক দোকানি। আহত হন পুলিশ সহ প্রায় ২০/৩০ জন। এই ঘটনায় চকরিয়ায় থানায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এরমধ্যে চকরিয়া থানার এসআই রাজীব সরকার বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে সরকারি কাজে বাঁধা ও সরকারী সম্পত্তি সশস্ত্র হামলা চালিয়ে ভাংচুরের অভিযোগ এনে পুলিশ এসল্ট ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে পৃথক দুটি মামলা করে। দুটি মামলাতেই ৭৫ জনের নাম উল্লেখ করে দুই থেকে তিন হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।

এ ছাড়া দোকানি ফোরকানুল ইসলাম (৬০) নিহতের ঘটনায় তার স্ত্রী নুরুচ্ছফা বেগম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এতে অজ্ঞাত ব্যক্তির গুলিতে ফোরকান মারা গেছেন দাবি করে ২/৩ হাজার অজ্ঞাত নামা আসামি করা হয়েছে।

চকরিয়া থানার ওসি জাবেদ মাহমুদ বলেন, নিহত ফোরকানের স্ত্রী বাদী দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত কোন আসামি না থাকলেও পুলিশ দায়ের করা পৃথক দুটি মামলাতেই ৭৫ জন করে আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ওসি মামলার স্বার্থে কারো নাম জানাতে রাজি হননি।

অপরদিকে পেকুয়া থানা পুলিশের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, সাঈদীর গায়েবানা জানাজা পড়ে ফেরার পথে পেকুয়ার বারবাকিয়া পুলিশের উপর হামলা করে দূর্বৃত্তরা। ওই সময় তাদের হামলায় ওসিসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন।

এ ঘটনায় বুধবার পেকুয়া থানার এসআই মুফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে পুলিশ এসল্ট ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে পৃথক পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। প্রতিটি মামলায় ১৫১ জনকে এজাহারনামীয় ও ১১০০ জনকে অজ্ঞাতনামা অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রত্যক্ষ আসামি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ওসি ওমর হায়দার বলেন, পৃথক আইনে আলাদা দুটি মামলা হয়েছে। প্রতিটি মামলায় ১৫১ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে।