জয়কে ‘হত্যার ষড়যন্ত্র’

শফিক রেহমান মাহমুদুর রহমানের ৭ বছর কারাদন্ড

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে ‘অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্র’-এর মামলায় সাংবাদিক শফিক রেহমান ও আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানসহ পাঁচজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাদের সবাইকে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্তদের এক ধারায় পাঁচ বছর এবং আরেক ধারায় দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও এক মাস কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নুর এই রায় দেন।

শফিক রেহমান ও মাহমুদুর রহমান ছাড়াও এ মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বাকি তিন আসামি হলেন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সহসভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুন, তার ছেলে রিজভী আহাম্মেদ ওরফে সিজার ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ভূঁইয়া।

রায়ের সময় কোনো আসামি আদালতে উপস্থিত না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

২০১৫ সালের ৩ আগস্ট ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) পরিদর্শক ফজলুর রহমান বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় মামলাটি করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশ করে সজীব ওয়াজেদ জয়কে যুক্তরাষ্ট্রে অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছেন। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরের আগে থেকে তারাসহ বিএনপি ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত অন্যান্য দলের উচ্চপর্যায়ের নেতারা এ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত। তারা রাজধানীর পল্টনের জাসাস কার্যালয়ে, আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরে, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় একত্র হয়ে এ-সংক্রান্ত আলোচনা করেছেন।

মামলার তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক শফিক রেহমানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া। ২০১৬ সালের ১৬ এপ্রিল শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত বছর ১৩ নভেম্বর সজীব ওয়াজেদ জয় আদালতে সাক্ষ্য দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের প্রসিকিউটর আবদুর রহমান কাজল জানান, এ মামলায় ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে আদালত।