আর্থিক সংকটে থাকা শ্রীলঙ্কাকে দেওয়া ঋণের মধ্যে ৫ কোটি ডলার ফিরত দিয়েছে দেশটি। ঋণ হিসেবে নেওয়া ২০ কোটি ডলারের প্রথম কিস্তি তারা গত ১৭ আগস্ট পরিশোধ করেছে। আগামী ৩০ আগস্ট আরও একটি কিস্তি পরিশোধ করার কথা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক। চলতি বছরের মধ্যেই ঋণের পুরো ২০ কোটি ডলার দেশটি পরিশোধ করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
কারেন্সি সোয়াপ পদ্ধতির আওতায় শ্রীলঙ্কাকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ২০ কোটি ডলার ঋণ দেয় বাংলাদেশ। এক বছরমেয়াদি ঋণের মেয়াদ শেষ হয় গত বছরের সেপ্টেম্বরে। এরপর তিন মাস করে দুদফা চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। পরে আরও ৬ মাস বাড়িয়ে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয় দেশটিকে। এই ঋণের বিপরীতে বাংলাদেশের কাছে ২০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ শ্রীলঙ্কান রুপি জমা ছিল। ৫ কোটি ডলার শোধ করায় ইতিমধ্যে সমপরিমাণ রুপি দেশটিকে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শ্রীলঙ্কা ঋণের টাকা পরিশোধে বাংলাদেশের কাছে সময় চাওয়ায় কয়েকবার পরিশোধের সময় বৃদ্ধি করা হয়েছিল। কিন্তু এবার আর তারা সময় বৃদ্ধির কোনো আবেদন করেনি। তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অর্থ ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। সে অনুযায়ী, চলতি মাসে আরও ১০ কোটি ডলার এবং আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ৫ কোটি ডলার ঋণ ফেরত দেওয়ার সূচি রয়েছে।
করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে শ্রীলঙ্কার পর্যটন খাত ব্যাপক ক্ষতিতে পড়েছিল। বৈদেশিক বিনিময়ে প্রতিনিয়ত মান হারানো শুরু করে দেশটির মুদ্রা রুপি। এতে টান পড়ে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা মজুদে। এমন পরিস্থিতিতে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে ডলার ধার করে শ্রীলঙ্কা। এরই অংশ হিসেবে ২০২১ সালের মে মাসে বাংলাদেশ সরকারও ২০ কোটি ডলার ধার দেয় দেশটিকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে এই ডলার দেওয়া হয়।
মুজিব চিরন্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষে ২০২১ সালের ১৯ মার্চ ঢাকায় এসেছিলেন। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন মাহিন্দা রাজাপক্ষে। ওই বৈঠকের ধারাবাহিকতায় শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ডব্লিউ ডি লক্ষ্মণ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে ডলার চেয়ে চিঠি দেন। এরপরই কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ঋণের বিপরীতে লন্ডন আন্তঃব্যাংক অফার রেট বা লাইবর যোগ করে দেড় শতাংশ সুদ পাওয়ার কথা বাংলাদেশের। শ্রীলঙ্কা সে সুদ নিয়মিত পরিশোধ করেছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়।