কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় এক স্কুলছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যুতে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সাধারণ দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে সেখানে যাওয়ার পর উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের পায়ের নিচের যেন মাটি সরে যায়। তারা জানতে পারেন, ঘাতক ট্রাকের চাপায় প্রাণ হারানো চতুর্থ শ্রেণির ওই শিশুটি তাদের সঙ্গে থাকা গাড়িচালক কনস্টেবল শামসুল হকেরই ছেলে। কর্তব্যের টানে অপরের সন্তানের লাশ উদ্ধারে গিয়ে নিজের সন্তানের নিথর দেহ দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন শামসুল হক। সন্তানের লাশের সামনে এই চরম নির্মমতা উপস্থিত সবাইকে অশ্রুসিক্ত করে তোলে।
গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জ শহরের জনতা স্কুল রোড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মোহাম্মদ তুহিন (১০) কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার কনস্টেবল শামসুল হকের ছেলে। সে গাইটাল জনতা স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ডিউটি অফিসার তানিয়া নাজনীন সাংবাদিকদের বলেন, সকালে থানায় ফোন করে জানানো হয়, জনতা স্কুল রোড এলাকায় সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাকের চাপায় এক স্কুলশিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। তখন নিহত শিশুটির পরিচয় জানা যায়নি। তিনি বলেন, খবর পেয়ে থানার একটি টহল দল ঘটনাস্থলে যায়। টহল দলে গাড়িচালক হিসেবে ছিলেন শামসুল হক। ঘটনাস্থলে পৌঁছে সদস্যরা দেখতে পান, নিহত শিশুটি শামসুল হকের ছেলে তুহিন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে গাইটাল এলাকার বাসা থেকে সাইকেল নিয়ে জনতা স্কুল রোড এলাকায় ঘুরতে বের হয় তুহিন। এ সময় একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাক তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম ভূঞা বলেন, লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে ট্রাকের চালক পালিয়ে গেছেন।