কেবল কারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা শিশুরা

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের আললাই তেহলিশ এলাকার একটি পার্বত্য উপত্যকায় কেবলকারে ছয় শিশু শিক্ষার্থীসহ অন্তত আটজন দীর্ঘ সময় ধরে আটকা পড়ে। গতকাল রাত ৯টা অবধি দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিদের উদ্ধারে সারা রাত অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে কর্র্তৃপক্ষ।  

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন জানাচ্ছে, বাত্তাগ্রাম পার্বত্যাঞ্চলে যানবাহন বা রাস্তাঘাট না থাকায় স্থানীয়দের ব্যক্তি উদ্যোগে তৈরি কেবল কারটি প্রতিদিন লোকজনদের গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। শিশুরাও স্কুলে যাওয়া-আসার জন্য এটি ব্যবহার করে। গত মঙ্গলবারও তারা দুজন শিক্ষকসহ স্কুলে যাচ্ছিল। সেই সময় আনুমানিক সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

ডন জানাচ্ছে, উপত্যকার একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে যাওয়ার সময় মাঝপথে চলন্ত অবস্থায় কেব্্লের একটি তার ছিঁড়ে যায়। তারপর থেকেই ১ হাজার ২০০ ফুট ওপরে কেবল কারটি ঝুলছিল।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কুইক রেসপন্স ফোর্স এবং স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপের কমান্ডোদের উদ্ধারকাজে মোতায়েন করা হয়েছে। আললাই পুলিশ কমিশনার জাওয়াদ হুসেইন বলেছেন, সামরিক বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার ১৫ মিনিট ধরে পরিস্থিতি জরিপ করেছে এবং রেসকিউ ১১২২ টিম কেব্্ল কারের নিচে জাল পাতার চেষ্টা করছে।

দমকল বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কেবল কারটি বর্তমানে একটি মাত্র তারের ওপরে নির্ভর করে ঝুলে আছে। স্থানীয় বাসিন্দা গুলফরাজ নামে এক ব্যক্তি ওই কেবল কারে রয়েছেন। তার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, আল্লাহর দোহাই লাগে আমাদের বাঁচান। এখানে আমরা আটজন আছি। শিশুগুলো সব ১০-১৫ বছর বয়সী। একজন ৩ ঘণ্টা যাবৎ অজ্ঞান ছিল। আমাদের কাছে কোনো পানি বা খাবার নেই।

ইতিমধ্যে দুইবার উদ্ধারের প্রচেষ্টা চালানো হলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে তা বাতিল করা হয়। উদ্ধারকর্মীরা তৃতীয়বারের মতো চেষ্টা চালানোর পর গতকাল রাত ৯টার দিকে দুই শিশুকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে ডন। এখনো চার শিশু ও দুজন শিক্ষক সেখানে আটকে রয়েছেন।

শুধু বাত্তাগ্রাম নয়, পাকিস্তানের আরও অনেক এলাকা রয়েছে, যেখানে পাহাড়েঘেরা পরিবেশ। বিভিন্ন উপত্যকায় মানুষ বসবাস করছে ঠিকই, কিন্তু তাদের জীবনযাত্রার মানে পরিবহনব্যবস্থা খুবই নিম্নমানের।