এনবিআরের নারী কর্মকর্তাকে অপহরণে গ্রেপ্তার ৩

ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী এলাকা থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক নারী কর্মকর্তাকে অপহরণ করে গ্যারেজে আটকে নির্যাতন ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার সাবেক গাড়িচালক ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে ওই নারীকে অপহরণ করে নির্যাতনের এ ঘটনায় মামলার পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিন অভিযুক্তকে।

মামলয় ছয়জন অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগী। তারা হলেন, ভুক্তভোগীর সাবেক প্রাইভেটকারের চালক মো. মাসুদ। তার সহযোগী সাইফুল ইসলাম, আবু বক্কর সিদ্দিক অরফে সাব্বির, ইয়াসিন আরাফাত রাজু, শান্ত, পনু ও শাহিন। এদের মধ্যে ইয়াসিন, সাইফুল ও আবু বকর গ্রেপ্তার আছেন। তাদের এক দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ওই দিন বড় মগবাজার থেকে নিজের গাড়িতে করে সিদ্ধেশ্বরীর বাসায় ফিরছিলেন এই কর কর্মকর্তা। ওই সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছালে একটি মোটরসাইকেল তার বহনকৃত গাড়িতে ধাক্কা দেয়। চালক গাড়ি থেকে নামলে সংঘবদ্ধ কয়েকজন চাবি কেড়ে নিয়ে গাড়িচালক আনোয়ার ও মালিক মাসুমাকে মারধর শুরু করে। এরপর আনোয়ারকে রেখে মাসুমা ও তার গাড়ি সবুজবাগের একটি গ্যারেজে নিয়ে যায় অপহরকারীরা। এ সময় মাসুমার মুখ টেপ দিয়ে আটকে রাতভর মারধর করা হয়। পরদিন দুপুর ২টা পর্যন্ত তাকে আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়। এতে তার এক পা ভেঙে গেছে এবং চোখ-মুখের আঘাত গুরুতর।

ভুক্তভোগী মাসুমা বলেন, আমার ব্যক্তিগত গাড়ির সাবেক চালক মো. মাসুদের চারিত্রিক সমস্যা থাকায় তাকে চলতি মাসের শুরুতে চাকরিচ্যুত করা হয়। তার পর থেকে বিভিন্নভাবে পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। সর্বশেষ গত ১৭ আগস্ট মাসুদসহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি অপহরণকারী দল নিয়ে আমাকে মারধর ও অপহরণ করে সবুজবাগ নন্দিপাড়া কবরস্থানের পাশে একটি বাসার গ্যারেজে গাড়ির মধ্যে আটকে রাখে। পরের দিন ১৮ আগস্ট মাসুদসহ কয়জন খাবার কিনতে যায়। বাকিরা গাড়ির পাহারায় ছিলেন। এই সুযোগে আমি গাড়ি থেকে বেরিয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এসে আমাকে (মাসুমা) উদ্ধার করে। সে সময় সেখান থেকে আমার ব্যক্তিগত গাড়ি ও মাসুদের তিন সহযোগীকে আটক করে পুলিশে দেয় স্থানীয়রা।

পুলিশ বলছে, ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে মাসুমা ও তার গাড়িচালক আনোয়ারকে মারধর করে কয়েকজন। এরপর সেখান থেকে মাসুমাকে তুলে নিয়ে সবুজবাগ থানা এলাকার একটি গ্যারেজে ১৮ ঘণ্টা আটকে রাখে তারা। সে সময় নির্যাতনে এই কর্মকর্তার পা ভেঙে যায়। তার চোখও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নির্যাতনের শিকার মাসুমা খাতুন এনবিআরের যুগ্ম-কমিশনার (ট্যাক্স)। কর অঞ্চল-২-এ কর্মরত তিনি। গ্রিন রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন।

রমনা থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, অপহরণের রাতে যুগ্ম কমিশনার মাসুমার কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা এবং তার মোবাইল ছিনিয়ে নেয় চক্রটি। তাকে অপহরণ করতে পারলে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা যাবে, এমন আশ্বাস মাসুদ দিয়েছিল তার সহযোগীদের।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সহিদুল ওসমান মাসুম বলেন, গ্রেপ্তার তিনজনের বাসা সবুজবাগের দক্ষিণগাঁও এলাকায়। মাসুদও ওই এলাকায় বসবাস করে। ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তথ্য নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আসামিদের একদিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে বেশ তথ্য মিলেছে। এখন পরিকল্পনাকারী মাসুদকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত অপহরণের পেছনে মূল ঘটনা কী, কিছুই বলা যাচ্ছে না।