বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রত্যাশা করে যুক্তরাজ্য। সেই প্রত্যাশার কথা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছেন বাংলাদেশে দেশটির হাইকমিশনার সারাহ কুক। গতকাল রবিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কেও জানতে চেয়েছেন। সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে তাকে আশ্বস্ত করেছেন সিইসি। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেন যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার। বৈঠকে সিইসির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান ও কমিশন সচিব মো. জাহাংগীর আলম উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের পর সারাহ কুক সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উৎসাহিত করে; যাতে বাংলাদেশের জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা করতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা স্বাধীন, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ এবং নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেছি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং তার দলের সঙ্গে আমার এটি প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ। গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে।’
সিইসি হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘বিভিন্ন বিষয় আলাপচারিতার মধ্যে নির্বাচন প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। উনি (সারাহ কুক) জানতে চেয়েছিলেন আমাদের প্রস্তুতি কেমন। আমরা বলেছি, নির্বাচন সম্পর্কে আশাবাদী। সুন্দর সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।’
সিইসি বলেন, ‘উনি (সরাহ কুক) অতিরিক্ত যেটা বলেছেন নির্বাচনটা যেন পার্টিসিপেটরি (অংশগ্রহণমূলক) এবং ক্রেডিবেল (বিশ্বাসযোগ্য) হয়। এ ক্ষেত্রে আমরা আমাদের পক্ষ থেকে কী ভূমিকা পালন করব? ইলেকশন ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার হতে হলে যারা পোলিং এজেন্ট তাদের ভূমিকাটা গুরুত্বপূর্ণ।’
আলোচনায় গণমাধ্যমের ভূমিকা উঠে এসেছে জানিয়ে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, পর্যবেক্ষকের বিষয়টা আলোচনা হয়েছে। তারা বলেছেন, নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছতার ওপর জোর দেবে। এ জন্য পর্যবেক্ষক এবং গণমাধ্যমের কাছ থেকে খুব বস্তুনিষ্ঠ সহায়তা চাইবেন তারা। কারণ নির্বাচনের যে একটা দর্পণ তা প্রতিফলিত হবে গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে।
সিইসি জানান, সারাহ কুক বলেছেন গণমাধ্যমের জন্য যে নীতিমালা হয়েছে, সেখানে ভোটকক্ষে পারমিশন (অনুমতি) নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তারা বলেছেন, পারমিশন বলে কিছু ছিল না। শেষ পর্যন্ত গণমাধ্যম থেকে যে দাবিটা আসছে, সেটা হলো মোটরসাইকেলের বিষয়। একটা কারণে তারা মোটরসাইকেল বাদ দিয়েছিলেন। কারণ মোটরসাইকেলের অপব্যবহার হয়। যারা মাসলম্যান (পেশিশক্তি ব্যবহারকারী), তারা মোটরসাইকেল ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে সংকট তৈরি করে। একই সঙ্গে বলেছেন, গণমাধ্যমের যে দাবি, সেটাও যৌক্তিক। মোটরসাইকেল ছাড়া তাদের নির্বাচনের খবর সংগ্রহ কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে। সে জন্য এ বিষয়টা বিবেচনাধীন রেখেছেন। এ-সংক্রান্ত নীতি তারা যথাযথভাবে পরিবর্তন করবেন।