ড. ইউনূসকে ওবামার চিঠি

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে চিঠি লিখেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। গতকাল রবিবার ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে চিঠিটি শেয়ার করা হয়।

চিঠির শুরুতে ‘প্রিয় প্রফেসর ইউনূস’ সম্বোধন করে যুক্তরাষ্ট্রের দুই বারের প্রেসিডেন্ট ওবামা লিখেছেন, মানুষের পরিবার এবং সমাজকে দারিদ্র্যমুক্ত করে তাদের ক্ষমতায়নের জন্য আপনার প্রচেষ্টা দ্বারা দীর্ঘকাল ধরে আমি অনুপ্রাণিত হয়ে আসছি।

প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন (২০০৯ সালে) স্মৃতিচারণ করে ওবামা লিখেছেন, ‘২০০৯ সালে হোয়াইট হাউজে আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পেয়ে আমি বলেছিলাম, আপনার কর্মকাণ্ড লাখ লাখ মানুষকে তাদের নিজস্ব সম্ভাবনার কথা ভাবতে অনুপ্রাণিত করেছে।’

ওবামা আশা প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘এটা আপনাকে শক্তি জোগাবে, অনেকের সম্ভাবনাকে আপনি বিনিয়োগ করেছেন এবং আমাদের মধ্যে যারা সবার জন্য আরও ন্যায়সংগত অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করছি, আপনি তাদের ভাবনায় রয়েছেন। আমি আশা করি, আপনার গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে আপনি অব্যাহতভাবে স্বাধীনতা পাবেন।’

চিঠিটি গত ১৭ আগস্ট বারাক ওবামার অফিশিয়াল প্যাডে প্রকাশিত হয়।

৩৪ নাগরিকের বিবৃতি : শ্রম আইন ভঙ্গের অভিযোগে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে সরকারের ফৌজদারি মামলা এবং সরকারি বিভিন্ন সংস্থা তাকে হয়রানি করছে দাবি করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের ৩৪ নাগরিক। ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে করা এ মামলাকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা। একই সঙ্গে তারা সরকারকে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

বিবৃতিদাতারা হলেন শিক্ষাবিদ আবুল কাসেম ফজলুল হক, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দিন খান, মানবাধিকারকর্মী হামিদা হোসেন, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, আইন বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক, মানবাধিকারকর্মী শারমীন মুরশিদ, পরিবেশ আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, অধ্যাপক আলী রীয়াজ, ড. আসিফ নজরুল, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, অধ্যাপক সি আর আবরার, অধ্যাপক পারভীন হাসান, অধ্যাপক ফিরদৌস আজিম, মানবাধিকারকর্মী শিরিন হক, নৃতাত্ত্বিক রেহনুমা আহমেদ, গবেষক ড. বিনা ডি কস্টা, অধ্যাপক স্বপন আদনান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শাহনাজ হুদা, অধ্যাপক তাসনীম সিরাজ মাহবুব, রুশাদ ফরিদী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আর. রাজী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সায়েমা খাতুন, ডা. নায়লা জেড খান, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী, তবারক হোসেইন, পরিবেশবিদ ও উন্নয়নকর্মী এম রেজাউল করিম চৌধুরী, গবেষক ড. সাদাফ নূর, ড. নোভা আহমেদ, রোজীনা বেগম, নাসের বখতিয়ার আহমেদ, লেখক মাহবুব মোর্শেদ ও রাখাল রাহা।

তারা বলেন, ‘সম্প্রতি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ টেলিকমে তার কয়েকজন সহকর্মীর বিরুদ্ধে শ্রম আইন ভঙ্গের অভিযোগে শ্রম আদালতে একটি ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে। তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, উত্থাপিত অভিযোগগুলো দেওয়ানি চরিত্রের হলেও সরকারের পক্ষ থেকে ফৌজদারি মামলা করা হয়।’

ড. ইউনূসকে হয়রানি করা হচ্ছে অভিযোগ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ব্যাংক হিসাব তলব, তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের নামে ড. ইউনূসকে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান হয়রানি করেছে। পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের বিষোদ্গার অব্যাহত রয়েছে। এসবের পরিপ্রেক্ষিতে শ্রম আদালতে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে ধারণা করার যুক্তি রয়েছে বলে আমরা মনে করছি। আমরা এতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।’

বিবৃতিদাতারা বলেন, ‘ড. ইউনূস অতিদরিদ্র ও অবহেলিত মানুষের অবস্থার উন্নয়নে কাজ করে বিশ্বে সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম ও কংগ্রেশনাল গোল্ড মেডেলসহ বিভিন্ন পদক ও পুরস্কার অর্জন করে বাংলাদেশের জন্য বিরল সম্মান বয়ে এনেছেন। আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের মোড়কে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে এবং বিশ্বের কাছে নেতিবাচক বার্তা দেওয়া হচ্ছে।’