সাদিকের ‘ছবি নামানোয়’ আ.লীগ নেতার গলায় জুতার মালা

বরিশালে দোকান থেকে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বিদায়ী মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর ছবি নামানোর অজুহাতে মনিরুজ্জামান খান বাচ্চু নামে এক আওয়ামী লীগ নেতা ও ব্যবসায়ীকে আটকে মারধর এবং গলায় জুতার মালা পরানোর অভিযোগ উঠেছে। জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য নাজমুল হাসান ওরফে মঈন জমাদ্দারের নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন নির্যাতনের শিকার মনিরুজ্জামান খান বাচ্চু।

তিনি চরামদ্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বরিশাল শহরের সোনার বাংলা মটরস নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। মনিরুজ্জামান খান বাচ্চুর গলায় জুতার মালা পরানোর দুটি ভিডিও ক্লিপ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে একটি এক মিনিট দুই সেকেন্ডের, অন্যটি ১৭ সেকেন্ডের। এতে দেখা গেছে, দোকান থেকে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর ছবি কেন নামানো হয়েছে, এ জন্য মনিরুজ্জামানের কাছে কৈফিয়ত চাইছেন সাদিক অনুসারী নেতাকর্মীরা।

নির্যাতনের এ ঘটনায় চরামদ্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য নাজমুল হাসান ওরফে মঈন জমাদ্দারের বিরুদ্ধে গত সোমবার সন্ধ্যায় কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে।

ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ২ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, মনিরুজ্জামান খান বাচ্চুকে বাধ্য করা হয়েছে ‘সাদিক আবদুল্লাহর ছবি দোকান থেকে নামিয়ে রাখা অন্যায় হয়েছে’এমনটা বলতে। আর একপর্যায়ে এ জন্য বাচ্চু ক্ষমাও চাইছেন।

আর ১৭ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, সাদিক আবদুল্লাহর ছবি নামিয়ে রাখায় শাস্তিস্বরূপ মনিরুজ্জামানের গলায় জুতার মালা পরানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মনিরুজ্জামান খান বাচ্চু বলেন, ‘বরিশাল নগরীর ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বান্দ রোডে সোনার বাংলা মটরস নামে আমার একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আছে। আমার পূর্বপরিচিত নাজমুল হাসান ওরফে মঈন জমাদ্দার ২২ আগস্ট ফোন করে নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুর রহমানের ক্লাব হিসেবে পরিচিত শহিদ রহিম স্মৃতি পাঠাগার ক্লাবের পশ্চিম পাশের একটি কক্ষে আমাকে ডেকে নেন। বিকেল ৩টার দিকে সেখানে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে রুম আটকে ওখানে থাকা সাব্বির, আব্দুল, কাওছার, সোহাগ আমাকে মারধর শুরু করে। এর মধ্যে একজন বিএনপির সমর্থক ও বাকি চারজন সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারী। আমাকে মারধর করে ওরা বলতে বলে যে আমার ব্যক্তিগত অফিস থেকে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর ছবি নামিয়েছি। ওরা যতবার এ কথা বলতে বলেছে, ততবার আমি বলেছি যে সাদিক আবদুল্লাহর ছবি আমার অফিস থেকে আমি নামাইনি। কিন্তু আমাকে রুমের মধ্যে আটকে ৮-৯ দফায় মারধর করে। শেষে মারধরের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। পরে বাধ্য হয়ে ওদের শেখানো কথা বলি যে সাদিক আবদুল্লাহর ছবি নামিয়েছি এবং তা অন্যায় হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমার ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী। আমাকে হেনস্তা করার জন্য কাওছার জুতার মালা বানিয়ে দেয় আর সোহাগ গলায় পরিয়ে দেয়। আমি দু-তিনবার ফেলে দিই। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে আরও মারধর করে। শেষে আমি জ্ঞান হারালে গলায় জুতার মালা পরিয়ে চেয়ারে বসিয়ে ভিডিও করে।’

মনিরুজ্জামান খান অভিযোগ করে বলেন, ‘এর আগে মঈন জমাদ্দার কয়েক দফায় হুমকি দিয়েছে, আমি মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহর পক্ষে কাজ করলে বরিশালে থাকতে দেবে না। সাদিক আবদুল্লাহ বরিশালে ফিরলে আমাকে মারধর করবে। আমার কক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার ছবি আছে। যেহেতু আমি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি এবং আমার অফিস সোনার বাংলা মটরসে বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ আসেন। এই ইস্যু কাজে লাগিয়ে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে যে সাদিক আবদুল্লাহর ছবি আমার অফিস থেকে নামিয়ে রেখেছি। এই অভিযোগ তুলে আমাকে মারধর ও গলায় জুতার মালা পরিয়ে তা ভিডিও করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাজমুল হাসান ওরফে মঈন জমাদ্দার বলেন, ‘মনিরুজ্জামান খান বাচ্চুর যে ভিডিও ছড়িয়েছে তা আমি ধারণ করেছি এবং ছড়িয়েছি এটা সত্য। কিন্তু জুতার মালা পরানোর যে ভিডিও তা আগের ভিডিওর সঙ্গে সম্পৃক্ত না। তা ছাড়া ওখানে সাদিক আবদুল্লাহর নাম বলাটাও আমার উচিত হয়নি। এটা আমি ভুল করেছি। এ জন্য সাদিক ভাইও (সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ) আমার ওপর খুব ক্ষিপ্ত হয়েছেন।’

মারধর ও জুতার মালা পরানোর অভিযোগ এনে নাজমুল হাসান ওরফে মঈন জমাদ্দার ও মো. সোহাগের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় চার-পাঁচজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন মনিরুজ্জামান খান বাচ্চু। এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘জুতার মালা পরিয়ে হেনস্তা ও পকেটে থাকা অর্থ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আমরা পেয়েছি। মামলাটি এজাহারভুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’