ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে বাধাহীন যাত্রা শুরু হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল ৬টা থেকে বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেটের দুই প্রান্ত দিয়ে গাড়ি ১০ থেকে ১২ মিনিটের মধ্যে যাওয়া-আসা করছে। অনেকেই প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ওঠার জন্য সকাল থেকেই র্যাম্পগুলোর সামনে অপেক্ষায় ছিলেন। অল্প সময়ে এক্সপ্রেসওয়ে পাড়ি দিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করলেও মহাখালী, বনানী ও ফার্মগেটের যাত্রীদের সড়কে নেমে যানজটের মুখে পড়তে হয়েছে।
এক্সপ্রেসওয়েতে সিএনজি ও মোটরসাইকেল না চলাচল করায় ব্যক্তিগত গাড়ি শুধু চলতে দেখা যায়। কোনো গণপরিবহন চলতে দেখা যায়নি। সকালের দিকে কয়েকটি অফিসের স্টাফ বাস চলতে দেখা গেছে। এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ির সংখ্যা অনেকটাই কম ছিল। যার ফলে সড়কে নিত্যদিনের যানজট আগের মতোই ছিল। একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করা মো. মনিরুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি বিজয় সরণি থেকে বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছিলাম। গতকাল (শনিবার) রাত থেকে চিন্তা ছিল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে বিমানবন্দর যাব। তাই বিজয় সরণির দিকে আসলাম। তবে কোম্পানি যাওয়ার জন্য আমাকে ৮০ টাকা দেবে না। আমার নিজের টাকা দিয়ে টোলের টাকা দিয়ে এখন যাচ্ছি। খুব ভালো লাগছে এক্সপ্রেসওয়ের চালক হয়ে।’
ভোর ৬টা থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে যাওয়ার জন্য বিজয় সরণির প্রান্তে হাজির হোন মো. আদনান। তিনি বলেন, ‘তেজগাঁও থেকে উত্তরায় আগে সকালের দিকে আসতেও অনেক যানজটে পড়তে হতো। সকালের দিকে মহাখালী বাসস্টেশনের দিকে বাইরের বাসের গাড়ির জটলার জন্য যানজটে বসে থাকতে হতো। কিন্তু এখন বিজয় সরণি থেকে বিমানবন্দরে ১১ মিনিটে চলে যাওয়া যাবে। এগুলো অনেকটা স্বপ্নের মতোই লাগছে।’
আতকিয়া মায়মুনা অর্থি নামে এক শিক্ষার্থী নিজেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রথম নারীচালক দাবি করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রায় ১১ কিলোমিটার ১১ মিনিটে পাড়ি দিয়ে খুব ভালো লাগল। ভোর ৬টা থেকেই আমি বিজয় সরণির র্যাম্পের সামনে ছিলাম। আমার আগে কোনো নারী চালককে আমি দেখিনি। যেখানে সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হতো সেখানে বিজয় সরণি দিয়ে বিমানবন্দর এলাকায় ১১ মিনিটের মধ্যে যেতে পারলাম। আমার কাছে অনেকটা স্বপ্নের মতোই মনে হচ্ছে।’
সরেজমিন বিমানবন্দর ও ফার্মগেটের দুই প্রান্তে গেলে দেখা যায়, প্রথম দিকে গাড়ির সংখ্যা দুদিকে তেমনটা ছিল না। বেশিরভাগ গাড়ির যাত্রীরা অনেকটা শখে ভ্রমণ করছেন। বিজয় সরণি থেকে বিমানবন্দরের অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে উড়াল সড়ক ব্যবহার করতে দেখা যায়। তবে ফার্মগেটে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানজটে পড়তে হয় যাত্রীদের। সকাল ৮টা থেকে মগবাজার, তেজগাঁও, বিজয় সরণি, মহাখালী, বনানী এলাকায় তীব্র যানজট দেখা যায়।
জানা যায়, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণ অভিমুখী যানবাহনের ক্ষেত্রে ওঠার স্থান হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের দক্ষিণে কাওলা; প্রগতি সরণি এবং বিমানবন্দর সড়কের আর্মি গলফ ক্লাব এবং নামার স্থান বনানী কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ; মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনে; ফার্মগেট প্রান্তে ইন্দিরা রোডের পাশে।
দক্ষিণ থেকে উত্তর অভিমুখী যানবাহনের ক্ষেত্রে ওঠার স্থান বিজয় সরণি ওভারপাসের উত্তর এবং দক্ষিণ লেন; বনানী রেলস্টেশনের সামনে এবং নামার স্থান মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনে; বনানী কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের সামনে বিমানবন্দর সড়ক; কুড়িল বিশ্বরোড এবং বিমানবন্দর তৃতীয় টার্মিনালের সামনে।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে দুই এবং তিন চাকার যানবাহন ও পথচারী চলাচল সম্পূর্ণ নিষেধ। এর ওপর যেকোনো ধরনের যানবাহন দাঁড়ানো ও যানবাহন থেকে নেমে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষেধ। নতুন এ উড়ালপথের মূল সড়কে সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার এবং ওঠানামার র্যাম্পের জন্য সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে অনেকেই মাঝপথে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলে আমরা তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দিচ্ছি। এখন গাড়ি কিছুটা কম দেখা যাচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির সংখ্যা বাড়তে থাকবে।
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক এএইচএমএস আকতার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে মাত্র আজই (গতকাল) খোলা হয়েছে। এখন দুটি র্যাম্প বন্ধ আছে। সেগুলো সামনে খুলে দেওয়া হবে। আর সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে ১৩ হাজার ১৬৫ গাড়ি যাওয়া-আসা করেছে। বিমানবন্দর থেকে বেশি গাড়ি ফার্মগেট অংশে যাতায়াত করেছে। এই ১৩ ঘণ্টায় ১১ লাখ ৮ হাজার ২৪০ টাকা আয় হয়।