মায়ের জন্য সালোয়ার-কামিজ কিনেছিলাম

আমার প্রথম চাকরি মার্কস মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ডেন্টাল ইউনিটের একজন লেকচারার হিসেবে শুরু হয়। আমি একই মেডিকেল কলেজের ছাত্রও ছিলাম। পড়াশোনা শেষ করে একই প্রতিষ্ঠানে পেশাগত জীবন শুরু করা একটি অনন্য অভিজ্ঞতা। যাদের পেয়েছি কেবল শ্রেণিকক্ষে, তাদের সঙ্গেই স্টাফরুমে মিটিং করার ব্যাপারটা কত যে থ্রিলিং; যারা না করেছে তাদের বলে বোঝানো কঠিন। যে মেডিকেল কলেজে আমি ছাত্র হিসেবে ঢুকেছিলাম, অনবরত দুষ্টুমিতে মেতে উঠতাম সেখানে শিক্ষক হিসেবে কাজ করার সময় আমার কেবলই ছাত্র অবস্থার কথা মনে পড়ে যেত। সে কারণেই হয়তো শিক্ষার্থীদের প্রতি কঠোর হতে পারতাম না। তাতে আমার শাপেবরই হয়েছে, শিক্ষার্থীরা আমাকে ভীষণ ভালোবাসত। নির্দ্বিধায় অ্যাকাডেমিক আলোচনার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়েও কথা বলত। অনেকে আমার কাছে গিটার শিখতে চাইত, অনেকে শিখেছেও। ছাত্রাবস্থায়ও আমি ক্যাম্পাসে পরিচিতি পেয়েছিলাম বিভিন্ন ইভেন্ট অ্যারেঞ্জ করা, গিটার বাজিয়ে গান করা ইত্যাদি কারণে। মজার ব্যাপার হলো, শিক্ষক জীবনেও এই বিষয়গুলো ছাত্রদের সঙ্গে সহজ হতে সাহায্য করেছে। আমার প্রথম কর্মস্থলে আমি যুক্ত ছিলাম ২০১৭ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের মে মাস পর্যন্ত। প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর। প্রথম বেতনের টাকায় মায়ের জন্য সালোয়ার-কামিজ কিনেছিলাম। মা খুব খুশি হয়েছিলেন। এর মাধ্যমেই আমি সম্ভবত পরিবারের সদস্যদের কাছে ‘ছোট্ট ছেলেটি’ থেকে ‘বড়’ হয়ে উঠেছিলাম।

অনুলিখন : এনাম-উজ-জমান