ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন ক্যাম্পাসে বন্ধুদের কারও জামদানির প্রয়োজন হলে নারায়ণগঞ্জে বাড়ি থাকায় রুবাইয়াকেই সবাই বলতেন। বিসিক থেকে শাড়ি সংগ্রহ করে পৌঁছে দিতেন। অতিরিক্ত কোনো টাকাপয়সা নিতেন না। এরপর করোনার সময় ন্যূনতম লাভে সবাইকে জামদানি দেওয়া শুরু করলেন। ২০১৭ সালে যে কাজটা কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই শুরু করেছিলেন সেটাকেই ব্যবসা হিসেবে বেছে নিলেন রুবাইয়া আক্তার। সবার আগ্রহ ও উৎসাহকে পুঁজি করে ‘এবং জামদানি- The Culture and Pride’ নামে ফেসবুক পেজের মাধ্যমে অনলাইনেও যাত্রা শুরু করলেন। আশানুরূপ সাড়া পাওয়ায় এক বান্ধবীকে নিয়ে এ বছর আরও গুছিয়ে শুরু করেন ব্যবসাটা।
ব্যবসা যখন শুরু করেন তখন মূলধনের স্বল্পতা ছাড়া আর প্রতিবন্ধকতায় পড়তে হয়নি। এ প্রসঙ্গে রুবাইয়া বলেন, ‘বড় মামার মানসিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় দাঁড়িয়ে আছি। অনেকের প্রশ্ন ছিল, বিসিএস না দিয়ে শাড়ির ব্যবসা কেন করছি? এত কিছুর পরও পরিবারকে কাছে পেয়েছেন।
ব্যতিক্রমী নামকরণ নিয়ে রুবাইয়া বলেন, ‘নামের শুরুতে বা এবং এর আগে অনেক শব্দ থাকে। বোঝাতে চেয়েছি, জামদানিকে যে যেভাবে দেখতে চায় সেভাবেই দেখুক। যেমন : হতে পারে নারী এবং জামদানি, বাংলাদেশ এবং জামদানি, ঐতিহ্য এবং জামদানি ইত্যাদি। এবং এরপর থাকা Culture and pride রেখেছি জামদানির ঐতিহ্য ও গর্ব ধরে রাখতে। ব্যবসার পাশাপাশি কাজ করছেন একটি দৈনিকে।
তার প্রতিষ্ঠান থেকে জামদানি শাড়ি, পাঞ্জাবি, জামা ও গৃহপণ্য দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও যাচ্ছে। প্রথমদিকে অর্ডার পেলে, সেটা ডেলিভারির পর যে লাভ হতো তাই দিয়ে পুনরায় আরেকটা শাড়ি তৈরি করতেন এভাবেই শূন্য মূলধনে শুরু হওয়া রুবাইয়ার বিনিয়োগ এখন লাখ লাখ টাকা। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন অনেকের। প্রতিষ্ঠানের আছে নিজস্ব কুরিয়ারের লোকবলসহ তাঁতি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে রুবাইয়া জানালেন, ‘আমি জামদানি নিয়ে গবেষণা এবং বহুমাত্রিক কাজ করতে চাই প্রান্তিক তাঁতিদের নিয়ে। যোগ্য সম্মান এবং উপযুক্ত পারিশ্রমিক দিয়ে নতুন তাঁতিদের নিয়ে আসতে চাই বুনন পেশায়।’
