আগস্টে রপ্তানি বাড়লেও প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তৈরি পোশাকের চালানের প্রবৃদ্ধি কমে গেছে, যা মোট রপ্তানি আয়ে প্রভাব ফেলেছে। চলতি বছরের আগস্টে দেশের রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হলেও তা অনেকটা ধীরগতির। ২০২২ সালের আগস্টে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩৬ শতাংশ। কিন্তু তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধি কমায় চলতি বছরের আগস্টে বাংলাদেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ব্যাপকভাবে কমেছে। চলতি বছরের আগস্টে সামগ্রিক রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশে। গতকাল সোমবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এ তথ্য জানিয়েছে।

৩৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ২০২২ সালের আগস্টে রপ্তানি হয়েছিল ৪৬০ কোটি ডলার। আর চলতি বছরের আগস্টে রপ্তানি হয়েছে ৪৭৮ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি বাড়লেও প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ।

প্রবাসী আয় ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি এমন সময়ে কমতে শুরু করেছে যখন দেশের রিজার্ভ কমছে। গত ৩০ আগস্ট দেশের সামগ্রিক রিজার্ভ ছিল ২৩ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলার। কারণ, এশিয়ার আটটি দেশের আমদানি বিল পরিশোধে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নকে ১ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার দিতে হয়েছে। চলতি সপ্তাহে রিজার্ভ ২৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

গত রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছিল, গত মাসে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার আরেকটি প্রধান উৎস প্রবাসী আয় ব্যাপক হারে কমেছে। এক বছরের ব্যবধানে আগস্টে প্রবাসী আয় কমেছে ২১ শতাংশের বেশি। এমন সংবাদের পরদিনই রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ধীরগতির তথ্য সামনে এলো। ডলার সংকটের বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের আরও বেশি হারে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন। কিন্তু প্রবাসী আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি তৈরি পোশাক শিল্পমালিকদের বিরুদ্ধে রপ্তানি আয় দেশে না আনার অভিযোগ উঠছে এখন।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সামগ্রিক রপ্তানি আয় ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৩৭ কোটি ৫১ লাখ ডলার হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৮৫৯ কোটি ডলার।

গত অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল ২৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে যা কমে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৪৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৭৯৯ কোটি ৮৫ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭১১ কোটি ২৬ লাখ ডলার।

শুধু আগস্ট মাস হিসেবে পোশাক খাতের রপ্তানি ছিল ওভেন পোশাকে ১৭৩ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেশি। নিট পোশাকের রপ্তানি হয়েছে ২৩২ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১২ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেশি। আগস্টে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৪০৪ কোটি ডলার, প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ। অবশ্য রপ্তানির প্রবৃদ্ধি কমলেও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় তা বেড়েছে। চলতি জুলাই-আগস্ট সময়ে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৮৮ কোটি ডলার। এর বিপরীতে অর্জন হয়েছে ৭৯৯ কোটি ডলার, অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ এগিয়ে রয়েছে রপ্তানি আয়।

এদিকে তৈরি পোশাক পণ্য রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখলেও অন্য প্রায় সব পণ্যই রপ্তানি আয় হারাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে চামড়া, পাট, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত মাছ ও কৃষিপণ্যসহ অন্য সব খাতেই রপ্তানি আয় কমেছে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই-আগস্টে হিমায়িত মাছ রপ্তানি কমেছে ২৫ দশমিক ২৬ শতাংশ।

কৃষিপণ্য রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ভালো প্রবৃদ্ধি হলেও তা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সামান্য কমেছে। এ সময়ে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি থেকে আয় কমেছে ১২ দশমিক ৭৩ শতাংশ। পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে কমেছে ১০ দশমিক ৩১ শতাংশ। হোম টেক্সটাইল রপ্তানি থেকে আয় কমেছে ৫৩ দশমিক ৪০ শতাংশ।

তবে এই দুই মাসে ওষুধ রপ্তানি থেকে আয় ১৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়েছে। প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ। জুতা রপ্তানিতে সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে ৬২ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে সরকার। এর মধ্যে ৮৪ দশমিক ৩০ শতাংশ (৫২ দশমিক ২৭ বিলিয়ন) ডলার তৈরি পোশাক থেকে আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে সব মিলিয়ে ৫৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ। এর মধ্যে ৪৭ বিলিয়ন ডলারই এসেছিল তৈরি পোশাক থেকে।